২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর কুলীন টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে লড়াই করে হেরেও আগমনি বার্তা দিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ধীরে ধীরে বড় দলগুলোর বিপক্ষে জয় পেতে শুরু করে টাইগাররা। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি এসেছে রোববার। অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে ৯ উইকেটে হারিয়েছে শান্ত-হাসান মাহমুদরা।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের যাত্রা দুই যুগের বেশি সময়ের হলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খুব বেশি ডাক পড়েনি। ২০০৩ সালে প্রথমবার দেশটিতে আমন্ত্রণ পায় টাইগাররা। এরপর বাংলাদেশের মাটিতে দলটি খেলে গেলেও নিজ দেশে কখনো ডাকেনি। ডারউইনের নামার মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাদা পোশাকে খেলতে নামে বাংলাদেশ। আর নেমেই তাতে ইতিহাস রচনা করে।
বাংলাদেশের সাদা পোশাকে প্রথম জয় আসে ২০০৫ সালে নিজেদের ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট ২২৬ রানের ব্যবধানে জিতে নেয় বাংলাদেশ। আর ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ ড্র হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় হাবিবুল বাশার সুমনের দল।
প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথম বড় সাফল্য আসে ২০০৯ সালে। সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে প্রথমবার ধবলধোলাই করে সাকিব-মাশরাফিরা। সেবার প্রথম ম্যাচে তামিম ইকবালের সেঞ্চুরিতে ৯৫ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। আর দ্বিতীয় টেস্টে সাকিবের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ৪ উইকেটে জেতে বাংলাদেশ। আর তাতেই প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে প্রথম কীর্তি গড়ে টাইগাররা ২-০-তে সিরিজ জিতে নেয়। ২০১৬ সালে নিজেদের ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে তীরে এসে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে মিরপুরে মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিন বিষে পুড়ে ইংল্যান্ড।
বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে নেয় ১০৮ রানের ব্যবধানে আর সিরিজ শেষ হয় ১-১ সমতায়। ২০১৭ সাল, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে তাদের ১০০তম টেস্ট ম্যাচ খেলতে মাঠে নামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোর পি সারা ওভালে। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে সাকিবের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ভর করে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়লাভ করেছিল। ২০১৭ সালে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসে অস্ট্রেলিয়া। টাইগারদের তখন ইংল্যান্ডকে হারানোর স্মৃতি জলজল করছে। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়ে দেয় সাকিবরা। সেবার টানা দুই বছরে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বাদ পায় বাংলাদেশ।
তারপর ২০২২ সালে বাংলাদেশ খেলতে যায় নিউজিল্যান্ডে। কিউদের বিপক্ষে তাদের মাঠে যেখানে বড় বড় দলগুলো ধুঁকতে থাকে, সেখানে মুমিনুল হকের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ঐতিহাসিক অর্জন।
নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে। পেসার এবাদত হোসেনের গতির কাছে পরাস্ত হয় কিউরা।
২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ।
রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় টেস্টে ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই জয়গুলো শুধু ম্যাচের ফল নয়। প্রতিটি জয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর আবেগ। এবার অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ৯ উইকেটের জয়। প্রতিটি সাফল্যই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিয়েছে। একসময় বড় দলের বিপক্ষে ভালো খেলাটাই বাংলাদেশের জন্য বড় খবর ছিল। এখন সেই দলগুলোকেই হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিচ্ছে বাংলাদেশ। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই জয়গাথা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে