জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকে ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি করেন। স্ট্যাটাসের সঙ্গে কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেন।
নাছির উদ্দীন বলেন, জুলাই-আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী এবং শিবির-নিয়ন্ত্রিত বট ও ফেক আইডিগুলো। পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির শুরু থেকেই জিসান ইস্যুকে অপহরণ ও ‘গুম’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তাদের নেতাদের বক্তব্য ও অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছে, যেন এটি রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততার কোনো ঘটনা।
নাছির বলেন, ‘গুম’ একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, যার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততার প্রশ্ন জড়িত। তবে পুলিশি তদন্তের প্রাথমিক তথ্যে ঘটনাটি অপহরণ বা গুম নয় বলে উঠে এসেছে। তদন্তে প্রকাশিত তথ্য সত্য হলে, এত বড় অভিযোগ আনার আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিতভাবে ‘গুম’ বয়ান ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি অপ্রমাণিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবেগ উসকে দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। পরে ভিন্ন তথ্য সামনে এলেও সেই প্রচারণার দায় কেউ নিচ্ছে না।
ছাত্রদলের এই নেতা অভিযোগ করেন, তথ্যের চেয়ে বয়ান এবং সত্যের চেয়ে মিথ্যা প্রচারণাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাচাইকৃত তথ্যের পরিবর্তে অনুমান, গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বক্তব্য দাঁড় করানো হলে তা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জনআস্থার জন্য ক্ষতিকর।
নাছির উদ্দীন বলেন, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে জনগণ সত্যভিত্তিক অবস্থান প্রত্যাশা করে, প্রোপাগান্ডা নয়। জিসান ইস্যুতে অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে যতটা তৎপরতা দেখা গেছে, তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তার সামান্য অংশও দেখা যায়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের প্রবণতা মোটেও শুভ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরবিএন