টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বালুর ট্রাক ছিনতাই ও অপহরণ মামলার আসামির অভিনব ও নাটকীয় কাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেওএম তৌফিক আযম আদালতে দায়ের করা সিআর মামলার তথ্য পরিবর্তন করে এফআইআর নির্দেশ গ্রহণ করেন। অপর দিকে মামলার আসামি মশিউর রহমান সোহেল নিজেই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে বাদী মামুন অর রশিদের কাছে ৪৪ লক্ষ টাকা পাওনা দাবি করেছেন এবং ছিনতাই হওয়া গাড়ি দুটি কালিহাতী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল রাত ১০ টার দিকে কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর বালুর ঘাট থেকে দুটি ট্রাক ছিনতাই ও ৩ জনকে অপহরণের অভিযোগে ৪ মে টাঙ্গাইল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে এস এম মামুন অর রশিদ বাদী হয়ে মশিউর রহমান সোহেল (৩২) ও আশরাফুল আলম সুমনকে (৩০) আসামী করে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত কালিহাতী থানার ওসিকে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দেন।
ওই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আসামি মশিউর রহমান সোহেল ও আশরাফুল আলম সুমন পলাতক থাকার পর হঠাৎ করেই এই নাটকীয় মোড় নেয়। মশিউর রহমান সোহেল থানায় হাজির হয়ে একটি জিডি করেন। জিডিতে তিনি দাবি করেন, গাড়ির মালিক ও মামলার বাদী এসএম মামুন অর রশিদের কাছে তিনি ব্যবসায়িক সূত্রে ৪৪ লক্ষ টাকা পান। এই টাকা আদায়ের সূত্র ধরেই গাড়ি দুটি আটক করে তার হেফাজতে নেন। পরে ৭ এপ্রিল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গাড়ি দুটি কালিহাতী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মগড়া তদন্ত কেন্দ্রের এস আই মোখলেছুর রহমান জানান,আসামি গাড়ি ফেরত দিলেও তার বিরুদ্ধে থাকা মূল অপহরণ ও ছিনতাই মামলার তদন্ত যথানিয়মে চলছে। সাধারণ ডায়েরি ও পাওনা টাকা বিষয়ে আমার জানা নেই। মামলা হওয়ার কয়েকদিন পরে আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে এ মামলা থেকে জামিনে রয়েছে।
এদিকে কালিহাতী থানার ওসি জেওএম তৌফিক আযম ও আসামি মশিউর রহমান সোহেলের এমন কাণ্ডে এলাকায় বেশ মুখরোচক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার বাদী এস এম মামুন অর রশিদ জানান,গত ২৯ এপ্রিল রাত ১০ টার সময় কালিহাতী উপজেলা ধলাটেংগর বালুর ঘাট থেকে আমার দুটি গাড়ি ছিনতাই ও আমার ছেলে শিহাব এবং আমার দুটি গাড়ির ড্রাইভার অপহরণের ঘটনা ঘটে। ৩০ এপ্রিল টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের কাছে গেলে পুলিশ সুপার কালিহাতী থানার ওসি তৌফিক আযমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
ওসি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আমি ৪ মে টাঙ্গাইল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মশিউর রহমান সোহেল (৩২) ও আশরাফুল আলম সুমনকে (৩০) আসামী করে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত কালিহাতী থানার ওসিকে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দেন। ওসি এফআইআর গ্রহণ না করে তালবাহানা করতে থাকে, দাবি বাদীর।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের চাপের মুখে ১৯ মে আদালতের দায়ের করা সিআর মামলার তথ্য পরিবর্তন করে এফআইআর গ্রহণ করেন ওসি। এফআইআর গ্রহণের পর থেকে আসামিরা বিভিন্নভাবে আমাকে এবং আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন, বলেও জানান মামুন অর রশিদ।
কালিহাতী থানার সাবেক ওসি জেওএম তৌফিক আযম ও ছিনতাই ও অপহরণ মামলার আসামি মশিউর রহমান সোহেলের নাটকীয় কাণ্ডের বিষয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কালিহাতী সার্কেল) মন্জুরুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি ট্রেনিংয়ে ছিলাম, যার কারণে এ মামলার বিষয়ে আমার ধারণা নেই। মামলার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে জেনে জানাবো।
সময়ের আলো/আতা