টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকা থেকে বালুবাহী দুটি ট্রাকসহ তিনজনকে অপহরণের ঘটনায় আদালতের নির্দেশের পরও মামলা রেকর্ড না করার অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ৪ মে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কালিহাতী আমলি আদালত থেকে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনাটি নিয়মিত মামলা (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ রহস্যজনকভাবে নিষ্ক্রিয় রয়েছে।
মামলার বিবরণ ও আরজি সূত্রে জানা গেছে, কালিহাতী উপজেলা সদরের সাতুটিয়া এলাকার বাসিন্দা এস এম মামুন অর রশিদ বাদী হয়ে আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন (সিআর মামলা নং- ৪৬২/২৬)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিবাদীরা সংঘবদ্ধভাবে ধলাটেংগর বালুঘাটের কাছের রাস্তায় অস্ত্রের মুখে তার ছেলে সিহাব, গাড়িচালক রাকিব ও আকাশ নামের তিনজনকে অপহরণ করে। একই সাথে দুটি বালুবাহী ট্রাক ছিনতাই করে ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল বাজারের একটি ঘরে আটকে রেখে অপহৃতদের মারধর করে এবং তাদের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
মামলার বাদী তার আরজিতে আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর ছেলে ও চালকসহ তিনজনকে অপহরণের খবর পেয়ে তিনি কালিহাতী থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করেন। ওই সময় তিনি থানায় একটি নিয়মিত মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে এস এম মামুন অর রশিদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলি আদালতে মশিউর রহমান সোহেল (৩০) ও আশরাফুল আলম সুমনসহ তিনজনকে বিবাদী করে একটি অপহরণ ও ছিনতাই মামলা দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩৮৫/৩৮৬/৩৬৩/৫৬ ধারায় দায়ের করা এই মামলার পরই আদালত কালিহাতী থানাকে তা এফআইআর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী এস এম মামুন অর রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, 'কালিহাতী থানা পুলিশ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করতে তালবাহানা ও সময়ক্ষেপণ করছে। উল্টো বিবাদীদের সাথে আপস-মীমাংসা করার জন্য আমাকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।'
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় ধরে তার ব্যাবসার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক দুটি থানায় আটকে থাকায় তিনি মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা রেকর্ড না করা এবং আপসের চাপের বিষয়ে জানতে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেওএম তৌফিক আযমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
সময়ের আলো/জেডি