চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) গাড়ির গতিরোধ করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ইয়ার্ডের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মূল হোতা মো. জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় সোনাইছড়ি সাগরপাড় এলাকায় অবস্থিত ‘বিওবি রিসাইক্লার্স শিপইয়ার্ড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস.এম. নুরুন নবী ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ইয়ার্ড থেকে বের হচ্ছিলেন। গাড়িটি খোঁজারপাড়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত সেটির গতিরোধ করে। এ সময় ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল জোরপূর্বক তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে।
ঘটনাটি দেখতে পেয়ে এমডির গাড়ির পেছনে থাকা বিওবি রিসাইক্লার্সের পাবলিক রিলেশন অফিসার মো. আলমগীর হোসেন, পরিচালক নাজমুল হুদা, ভূমি কর্মকর্তা অহিদুর রহমান এবং ইয়ার্ড ম্যানেজার সাহাবউদ্দিন দ্রুত এগিয়ে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন সন্ত্রাসী দলের নেতৃত্বে থাকা মো. জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আকস্মিক তাঁদের ওপর হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীরা জানান, মারধরের মধ্যেও তারা এমডিকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা পাবলিক রিলেশন অফিসার আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করে। হাত দিয়ে সেই আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তার হাত গুরুতর জখম হয়। হামলার সময় তাদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় আহত আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে শনিবার রাতেই সীতাকুণ্ড থানায় একটি চাঁদাবাজি ও মারধরের মামলা করেন। মামলায় মধ্য সোনাইছড়ি বক্তারপাড়া এজাহার মেম্বার রোড এলাকার মুফিজুর রহমানের ছেলে মো. জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামি করা হয়।
বাদী আলমগীর হোসেন বলেন, জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদার দাবিতে আমাদের ইয়ার্ডে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আসছিল। সর্বশেষ তারা এমডির গাড়ি থামিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের মারধর করে আহত করে এবং সঙ্গে থাকা টাকা লুট করে নেয়।
মামলার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে এবং রবিবার (১৪ জুন) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, শিল্পাঞ্চলে এমন প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও শিপব্রেকিং শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শিল্প কার্যক্রমে যেন কোনো স্থবিরতা না আসে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর ও নজরদারিমূলক ভূমিকা কামনা করেছেন।
সময়ের আলো/জোই