সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর বাড়ছে না কর

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং

2026-06-15T05:52:14+00:00
2026-06-15T05:52:14+00:00
 
  সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
অর্থনীতি
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর বাড়ছে না কর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৫:৫২ এএম   (ভিজিট : ২২)
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর বাড়ছে না কর। সংগৃহীত ছবি
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং সঞ্চয়পত্রের জন্য যে নতুন রেজিম আনা হয়েছে এর ফলে হাজার হাজার করদাতা বিশেষ করে মা-বোনেরা, যাদের সঞ্চয়পত্রের আয় ছাড়া অন্য কোনো আয় নেই তারা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কিছু অর্থ ফেরত পাবেন। 

রোববার বিকালে রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) অডিটোরিয়ামে ‘অর্থবিল ২০২৬-২৭-এর বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আবদুর রহমান খান বলেন, করদাতাদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা, কর ব্যবস্থাকে সহজ করা এবং সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে কর ভিত্তি সম্প্রসারণই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। 

তিনি বলেন, এবারের বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শুল্ক ও কর বৃদ্ধির কারণে যাতে দ্রব্যমূল্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর ও শুল্কে স্বস্তি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং ব্যবসা সহজ করতে বিভিন্ন সহায়ক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে 

তিনি বলেন, ছোট ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ও সহজ ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবসায়ীকে জটিল রিটার্ন, অডিট বা হিসাবপত্র সংরক্ষণের ঝামেলায় পড়তে হবে না। অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধন নিয়ে নির্ধারিত টার্নওভার কর পরিশোধ করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।

তিনি জানান, ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া আয়করের ই-টিআইএর মতো তাৎক্ষণিক করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এনবিআর নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি করবে, যার মাধ্যমে সহজেই ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা যাবে। এদিকে তামাক খাতে কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের স্ট্যাম্পে কিউআর কোড সংযোজন করা হবে। 

সাধারণ ভোক্তারা মোবাইলের মাধ্যমে যাচাই করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর কর পরিশোধ করা হয়েছে কি না। তিনি বলেন, কর ফাঁকির তথ্য দিলে ভোক্তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, তামাক খাতে প্রায় ১৫ শতাংশ পণ্য করের আওতার বাইরে থেকে যায়। নতুন প্রযুক্তি চালু হলে এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ভবিষ্যতে একই ব্যবস্থা অন্যান্য উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা হবে। 

আবদুর রহমান খান বলেন, বর্তমানে ৪৫ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। আগামী অর্থবছর থেকে কোম্পানি ও ভ্যাট রিটার্নও সম্পূর্ণ অনলাইনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিভিত্তিক অডিট পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমুক্ত (ডিরেগুলেশন) পরিবেশ তৈরিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রফতানিমুখী ব্যবসায়ীদের একটি বড় দাবি ছিল বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ। 

এতদিন যাদের নিজস্ব বন্ডেড ওয়্যারহাউস ছিল না, তারা বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহে নানান জটিলতার মুখোমুখি হতেন। নতুন বাজেটে এ সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, যেসব ব্যবসায়ী বন্ড লাইসেন্স নিতে চান না, কিন্তু ডিউটি ফ্রি আমদানি করতে আগ্রহী, তাদের জন্যও নতুন সুযোগ রাখা হয়েছে। আমরা বলেছি, ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে তারা ডিউটি ফ্রি কাঁচামাল আমদানি করতে পারবেন। 

এদিকে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) সুবিধা নিয়েও সংস্কারের কথা তুলে ধরেন তিনি। আবদুর রহমান খান বলেন, এই লাইসেন্সের আওতায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত পণ্য খালাসের সুবিধা পান এবং তাদের পণ্য বন্দরে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াই ছাড় করা সম্ভব হয়। কিন্তু অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদন করছিল না। 

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি অডিট রিপোর্ট করদাতার হাতে থাকে না। তাই এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অডিট রিপোর্টের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে, যাতে আরও বেশি ব্যবসায়ী এ সুবিধা নিতে পারেন।

এনবিআর চেয়ারম্যানের ভাষ্য, বন্ড ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণে একগুচ্ছ সংস্কার আনা হয়েছে, যা বিনিয়োগ ও রফতানি কার্যক্রমকে আরও সহজ করবে। তিনি বলেন, সরকার যেসব কর সুবিধা দিয়েছে জনগণ তার সুফল পাচ্ছে কি না, সেটিও আমাদের তদারকি করতে হবে। এখন সাধারণ মানুষের হাতেই তথ্য রয়েছে। 

সরকার এবার কোন পণ্যে কত কর কমিয়েছে, বাজেটেই তার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যেমন হার্টের রিং, চক্ষু চিকিৎসাসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যে কর কমানো হয়েছে। তাই এখন সাধারণ মানুষও বলতে পারবেন, সরকার তো এত টাকা কর কমিয়েছে তা হলে আপনারা দাম কমাচ্ছেন না কেন? 

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। অনুষ্ঠানে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (মূসক) বদরউদ্দিন মুন্সী, কাস্টমস নীতির প্রথম সচিব তারেক হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সময়ের আলো/জেডি 




  বিষয়:   সঞ্চয়পত্র  মুনাফা  বাড়ছে না  কর 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: