ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানি দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ জনবলের সংকটে ভুগছে। এই ঘাটতি পূরণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগের সুযোগ বাড়িয়েছে দেশটি। এর অংশ হিসেবে বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য চালু রয়েছে ‘কোয়ালিফায়েড এমপ্লয়মেন্ট’ ভিসা, যা দক্ষ কর্মীদের জার্মানিতে কাজ ও দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ করে দেয়।
তবে এই ভিসা পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটি চাকরির অফারই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত, পেশাগত এবং কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।
জার্মানির বাইরে অর্জিত বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি অথবা কারিগরি প্রশিক্ষণ সনদ দেশটির স্বীকৃতি ব্যবস্থার আওতায় গ্রহণযোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা জার্মান মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করবে। এই স্বীকৃতি ছাড়া সাধারণত কর্মভিসা কিংবা আবাসনের অনুমতি পাওয়া সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন
ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে জার্মানির কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দক্ষতাভিত্তিক চাকরির প্রস্তাব থাকতে হবে। এসব পদে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি বা পেশাগত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। তবে চাকরিটি আবেদনকারীর অধ্যয়ন করা বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
অন্যদিকে, সহায়ক বা অদক্ষ শ্রমনির্ভর কাজ এই ভিসার আওতায় পড়ে না। কারণ এসব পেশায় বিশেষ কোনো একাডেমিক বা কারিগরি যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না।
জার্মানিতে কিছু পেশা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ কয়েকটি পেশায় কাজ করতে চাইলে শুধু চাকরির অফার থাকলেই হবে না; সংশ্লিষ্ট পেশাগত লাইসেন্স বা অনুমোদনও থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাই ও স্বীকৃতি গ্রহণ করতে হয়।
যারা প্রথমবারের মতো কাজের উদ্দেশ্যে জার্মানিতে যাচ্ছেন এবং বয়স ৪৫ বছরের বেশি, তাদের জন্য বিশেষ শর্ত নির্ধারণ করেছে দেশটি। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, এসব আবেদনকারীর বার্ষিক মোট বেতন কমপক্ষে ৫৫ হাজার ৭৭০ ইউরো হতে হবে।
যদি এই বেতনের শর্ত পূরণ না হয়, তাহলে পর্যাপ্ত অবসরভাতা বা ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার প্রমাণ দেখাতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে জার্মানিতে আসা বিদেশি কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘কোয়ালিফায়েড এমপ্লয়মেন্ট’ ভিসা শুধু একটি চাকরির অনুমতি নয়; এটি জার্মানিতে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গঠন এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী আবাসনের সুযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
এএডি/