মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি হতেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ঘোষণা সামনে আসার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমার প্রত্যাশাই বাজারে এই মূল্যপতনের প্রধান কারণ।
সোমবার (১৫ জুন) এক প্রতিবেদনে সিএনএন থেকে জানা যায়, চুক্তির ঘোষণা প্রকাশের পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮৪ মার্কিন ডলারে, যা গত তিন মাসের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন পর্যায়।
একই প্রবণতা দেখা গেছে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের বাজারেও। এই সূচকের তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮১ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থির থাকা জ্বালানি বাজারে স্বস্তির বার্তা পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় জানান, ইরানের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে।
এই ঘোষণার পর থেকেই বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমে এলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসের শুরু থেকে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংঘাতের কারণে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে একপর্যায়ে ১০০ ডলার অতিক্রম করেছিল।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিডান এনার্জির প্রধান বব ম্যাকনেলির মতে, মূল্যহ্রাস বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। সংঘাতের কারণে সরবরাহ ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় মূল্যও দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয় এবং সমঝোতা চুক্তি বাস্তবায়নের পথে এগোয়, তাহলে আগামী সপ্তাহগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আরও স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।
এএডি/