বরগুনার আমতলীতে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে গভীর নলকূপ, ফ্যামিলি কার্ড, ভিজিএফ, ভিজিডি কার্ড এবং বিধবা, বয়স্ক ও মাতৃত্বকালীন ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জাকিয়া সুলতানা (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে বরগুনা সদরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক জাকিয়া সুলতানা আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা এলাকার লতিফ মাদবরের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাকিয়া সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় করে আসছিলেন। তিনি গভীর নলকূপ স্থাপন, ফ্যামিলি কার্ড, ভিজিএফ-ভিজিডি কার্ড এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত এক বছরে তিনি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়ার পরও জাকিয়া সুলতানা তাদের প্রতিশ্রুত কোনো সুবিধা পাইয়ে দিতে পারেননি। বরং নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছিলেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন এবং সম্প্রতি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে বরগুনা সদর উপজেলার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জাকিয়া সুলতানাকে বরগুনা সদর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে আমতলী থানায় আনা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/আআ