গাইবান্ধায় এক তরুণের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার জেরে অপহরণের শিকার হয়েছিল অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর নারায়ণগঞ্জ থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র্যাব। একই সঙ্গে অভিযুক্ত তরুণকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার তরুণের নাম মেহেদুল ইসলাম (১৯)। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের ছেলে। উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী সাদুল্লাপুর উপজেলার কিশামত শেরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এর পাশাপাশি সে স্থানীয় তারবিয়াতুল উম্মা মহিলা মাদ্রাসায় আরবি বিষয়ে পড়াশোনা করত।
র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাতে রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন ভোলাইল মরাখালপাড় এলাকার আল মদিনা মসজিদের কাছ থেকে মেহেদুলকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ সময় সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে। অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র্যাবও দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে আসছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন মেহেদুল। একপর্যায়ে তিনি মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। ছাত্রীটি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি নিজের পরিবারকে জানায়। পরে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্তের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
এর জেরে গত ৬ জুন সকাল ৮টার দিকে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে সদর উপজেলার দক্ষিণ কাজিবাড়ী সন্তোলা এলাকা থেকে ছাত্রীটিকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় গত ১২ জুন ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় অপহরণের মামলা করেন।
র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী ও গ্রেফতার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই