গাজীপুরের কালিয়াকৈরকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা বলা হয়। তবে সেটি কেবল নামে মাত্র। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের সংকটের কারণে মহাসড়ক ও বাসাবাড়িতে পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। গেলো রাত থেকে অতি বৃষ্টির ফলে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে পানি জমে থাকে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এর আগে মঙ্গলবার ভোর থেকে বৃষ্টির কারণে এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।
জানা গেছে, কালিয়াকৈর পৌরসভা ২০০১ সালে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয়েছে। দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মধ্যে একটি কালিয়াকৈর পৌরসভা। এখানে প্রায় তিন শতাধিক শিল্প কলকারখানা রয়েছে। ১০ লাখের অধিক মানুষের বসবাস এই পৌরসভায়। গত ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পৌরসভাটির দায়িত্ব পালন করে আসছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কিন্তু দায়িত্ব পালনে কিছুটা ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে পৌরবাসীর।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে মাত্র দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। ডুবে গেছে অসংখ্য সড়ক ও দোকানপাট। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে পুরো এলাকা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌর এলাকার বাসিন্দারা।
ভোর থেকে টানা দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি মহল্লার বসতবাড়ি, মার্কেট ও দোকানপাট মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একাংশসহ ওয়ার্ডের প্রধান সড়কগুলোও ডুবে যায়। আবাসিক কলোনিতে পানি প্রবেশ করায় বহু পরিবার রান্নাবান্না ও জীবিকা অর্জন করতে পারছে না। অনেকে ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। সড়ক ডুবে যাওয়ায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে না পারায় কয়েকটি পোশাক কারখানাও বন্ধ হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাইনকিনি, হরতকিতলা ও মাইওয়ান মোড় এলাকায় চলাচলের প্রধান সড়ক, শতাধিক দোকানপাট, স্কুল ও ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে আছে। আচমকা পানি প্রবেশের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থানে ডাইং কারখানার দূষিত পানি ও আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দিয়েছে।
পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বাসিন্দা জাহিদ জানান, ভোরে বৃষ্টি শুরু হতেই আতঙ্কে পড়ে গেছি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘরের দরজার সামনে পানি চলে এসেছে। ভয়ে পরিবার নিয়ে ঘরবন্দি হয়ে আছি। বাজার করতে পারিনি, রান্না করার সুযোগ নেই। অফিসেও যেতে পারিনি, কারণ সব রাস্তায় কোমরসমান পানি। বছরে একাধিকবার এমন যুদ্ধ করতে হয়, অথচ কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।
পৌরবাসীরা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কালিয়াকৈর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. এইচ. এম ফখরুল হোসাইন জানান, ড্রেনেজব্যবস্থা পরিষ্কারের কারো গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই