নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় আবাসিক ভবনে গ্যাস লাইনের ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ পরিবারের শেষ সদস্য মিমও (১৩) চলে গেল না ফেরার দেশে। এ নিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোররাত ১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিম শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান আজ দুপুরে মিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তার শরীরের ৫১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এর পাশাপাশি তার শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকার একটি একতলা বাড়িতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হন। এরপর শুক্রবার (১২ জুন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে মারা যান মিমের মা সুলতানা বেগম (৩৫)।
পরবর্তীতে সোমবার (১৫ জুন) ভোরে মারা যান পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আব্দুল মান্নান (৫০) এবং একই দিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে মারা যান তাদের ১৯ বছর বয়সি ছেলে সিয়াম। সবশেষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) মিমের মৃত্যুর মাধ্যমে আব্দুল মান্নানের পুরো পরিবারটিই চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ওই এলাকায় স্তব্ধতা ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত আব্দুল মান্নানের প্রতিবেশী শিশু হযরত আলী (৮) জীবিত রয়েছে। শরীরের ৮ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে সে বর্তমানে হাসপাতালের অবজারভেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে কাঁচপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটিতে তিতাস গ্যাসের লাইনের পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডারের সংযোগও ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে কোনোভাবে রান্নাঘরে গ্যাস লিকেজ হয়ে তা পুরো ঘরে জমে ছিল। সকালে রান্নার উদ্দেশ্যে দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গেই জমে থাকা গ্যাসে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
সময়ের আলো/জেডি