গ্রামের নাম, হাটের নাম কিংবা কোনো স্টেশনের নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্থানীয় ইতিহাস ও প্রকৃতির গল্প। সময়ের ব্যবধানে সেই গল্পের অনেকটাই হারিয়ে গেছে। এখন অনেক জায়গার নাম বকুলতলা হলেও সেখানে নেই একটি বকুল ফুল গাছ, তালতলায় নেই তাল, বেলতলায় নেই বেল গাছ। হারিয়ে যাওয়া সেই পরিচয় ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উদ্যোগটির মূল ভাবনা-যে স্থান বা স্টেশন যে নামে পরিচিত, সেখানে সেই নামের গাছই রোপণ করা। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশ সমৃদ্ধ হবে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে এলাকার নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রকৃতির ইতিহাস।
এই কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বকুলতলা স্টেশনে। সেখানে ২০টি বকুল গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। চারাগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে, যাতে গাছগুলো নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠতে পারে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এটি কেবল শুরু। পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। বাদামতলায় লাগানো হবে বাদাম গাছ, ফুলতলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ, রেইনট্রিতলায় রেইনট্রি, তালতলায় তালগাছ, বটতলায় বটগাছ, বেলতলায় বেলগাছ, নিমতলায় নিমগাছ এবং কাঠালতলায় কাঠালগাছ।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ২০টি স্থান বা স্টেশনে এভাবে নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গাছ লাগানোর কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এটি শুধু বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়, বরং স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে এক সুতোয় গেঁথে রাখার একটি প্রয়াস। দীর্ঘদিন ধরে হারিয়ে যাওয়া পরিচিত গাছগুলো আবারও স্থান করে নিলে এলাকার নামের সঙ্গে বাস্তবের মিলও ফিরে আসবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ব্যতিক্রমী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা বলেন, আমাদের উপজেলা থেকে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করছি। কৃষি বিভাগের এমন উদ্যোগকে সফল করতে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে। এমন উদ্যোগ দেশের অন্য এলাকাতেও অনুসরণ করা গেলে শুধু সবুজায়নই নয়, স্থানীয় ইতিহাস ও ভূ-নামের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া প্রকৃতির সম্পর্কও নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সময়ের আলো/আতা