ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা, বাদী গ্রেফতার

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

সারাদেশ

পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগের কোনো সত্যতা না

2026-09-22T19:16:44+00:00
2026-09-22T19:16:44+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৭ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা, বাদী গ্রেফতার
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম 
ছবি : সময়ের আলো
পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় আদালত মামলাটি খারিজ করেছেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়ের করে নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করার অভিযোগে বাদী জাহানারা বেগমের (৬৩) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের নির্দেশের পর গত সোমবার রাতে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন জাহানারা বেগম। মামলাটির নম্বর ৮৬৪/২০২৫।

মামলায় জাহানারা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর ১২ বছর বয়সী নাতনি পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদে আরবি পড়তে যেত। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে তাকে মক্তবের পাশের একটি স্টোররুমে নিয়ে মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. তানভীর হোসেন, খাদেম সাব্বির ও আহমাদুল্লাহ ধর্ষণ করেন।

আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও হাসপাতালের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করা হয়। এতে ধর্ষণের অভিযোগের কোনো সত্যতা বা আলামত পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত শেষে গত ২৯ জুন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। প্রতিবেদনে মামলার অভিযোগকে মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়।


এরপর গত ২৮ জুলাই মামলার শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জেলা জজ মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর মডেল মসজিদে চুরির অভিযোগে জাহানারা বেগমের দুই নাতিকে আটক করা হয়েছিল। খাদেম সাব্বির ও মুসল্লি আলহাজ শাহ আলম তাদের আটক করে বিষয়টি মসজিদের পেশ ইমামকে জানান। পরে ইমাম বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (সদর সার্কেল) অবহিত করেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই কিশোরকে থানায় নিয়ে যায়। তবে তারা ১৮ বছরের কম বয়সী হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর প্রায় ১৫ দিন পর জাহানারা বেগম মডেল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের পর বিবাদীপক্ষ জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করলে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   ইমাম  মুয়াজ্জিন  ধর্ষণ মামলা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: