বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে খাউলিয়া ইউনিয়নের বড়পরী ও বানিয়াখালী এলাকায় সারসংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কৃষকদের মধ্যে সার সরবরাহ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে সন্ন্যাসী বাজারে অতিরিক্ত বরাদ্দের ১০ টন সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
এর আগে খাউলিয়া ইউনিয়নের দুটি পয়েন্টে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে গত ২০ সেপ্টেম্বর ‘দৈনিক সময়ের আলো’ অনলাইনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ বিষয়টি নজরে নেয়।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় খাউলিয়া ইউনিয়নের সন্ন্যাসী বাজারে মেসার্স আঁখি ট্রেডার্সের বিসিআইসি ডিলার রাশিদা খানমের গুদাম থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দের ২০০ বস্তা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৮০ বস্তা ইউরিয়া, ৪০ বস্তা টিএসপি, ৪০ বস্তা এমওপি ও ৪০ বস্তা ডিএপি সার ছিল। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এসব সার কৃষকদের দেওয়া হয়।
এ সময় ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন, বিসিআইসি ডিলারসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সার না পেয়ে কয়েকবার ডিলারের কাছে গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছে তাঁদের। ধান রোপণের সময়ে সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সার পাওয়ায় তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন।
বড়পরী গ্রামের কৃষক আলম মোল্লা, আলীম আকন, জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর ও সবুর হাওলাদার এবং বানিয়াখালী গ্রামের কবির আকন ও বাবুল তালুকদারসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, ‘সারের জন্য কয়েকবার ডিলারের কাছে গিয়ে ফিরে এসেছি। এখন ধান রোপণের সময়। এ সময়ে সার না পেলে ফসল উৎপাদন কীভাবে করব? কৃষি অফিস আমাদের সমস্যার কথা জেনে সার এনে দিয়েছে। আমরা এতে খুশি।’ কৃষকেরা এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান আমন মৌসুমে উপজেলায় সারসংকট নেই। তবে খাউলিয়া ইউনিয়নের দুটি পয়েন্টে বরাদ্দ করা সার শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বড়পরী ও বানিয়াখালী এলাকার কৃষকেরা সার পাচ্ছিলেন না। বিষয়টি জানার পর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অন্য ইউনিয়ন থেকে সার এনে কৃষকদের দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিজে উপস্থিত থেকে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করেছেন। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এসএকে