দেশের কোনো মাদ্রাসার শিক্ষক মে মাসের বেতন পাননি বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. নুরুল আমীন। দেশের মাদ্রাসা শিক্ষকদের এই বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনের কার্যসূচিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন এই বিষয়টি সংসদের সামনে তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশের অন্যান্য সরকারি চাকরিজীবীদের যদি প্রত্যেক মাসের এক-দুই তারিখের মধ্যে নিয়মিত বেতনের প্রয়োজন হয়, তবে সরকার তা দিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বড় একটি ধর্মীয় উৎসব (ঈদ) চলে যাওয়ার পর আজ জুন মাসের ১৬ তারিখ হয়ে গেলেও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষককে মে মাসের বেতন দেওয়া হয়নি। যদি তাদের এই বেতনটি দিতেই হয়, তবে তা মাসের শুরুতে দিলে এই স্বল্পআয়ের শিক্ষকেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কিছুটা উপকৃত হতে পারতেন।
মো. নুরুল আমীন বলেন, ‘একটা অক্ষরের একটা পরম শব্দ হলো ‘মা’। তামাম পৃথিবীর সব মধু যেন এই শব্দের মাঝে জড়ানো রয়েছে। এই সংসদে আমাদের মতো এমন অনেকেই আছেন যাদের মা বেঁচে নেই। আমার নিজের মা-ও আজ দুনিয়াতে নেই। আজ সংসদে আসার ঠিক আগ মুহূর্তে নির্বাচনী এলাকার একজন মাদ্রাসা শিক্ষক আমাকে ফোন করে অত্যন্ত আকুল হয়ে কাঁদছিলেন। তিনি টাকার অভাবে তার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।’
তিনি অবিলম্বে মাদ্রাসার অবহেলিত ও বঞ্চিত শিক্ষকদের এই মে মাসের বকেয়া বেতন দ্রুত ছাড় করার জন্য স্পিকারের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে অনতিবিলম্বে সরকারীকরণ (জাতীয়করণ) করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
সময়ের আলো/জেডি