যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরুর আগে বিশ্ব অর্থনীতি ঠিক যে অবস্থায় ছিল, এই চুক্তির পর সবকিছু আবার ঠিক সেখান থেকেই শুরু হবে- এমনটা আর আশা করা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে এমন কিছু পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে। এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এমনটা তুলে ধরেছে মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ার কারণে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে এক বড় পরিবর্তন আসছে। পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে আমেরিকার জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলো বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে বা বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে; অন্যদিকে আমদানিকারক দেশগুলো তাদের জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে এবং নিজস্ব সরবরাহ সুরক্ষিত করতে হিমশিম খাচ্ছে।
এর ফলে জ্বালানি বাজার পরিবর্তিত হচ্ছে, জ্বালানির মিশ্রণ (এনার্জি মিক্স) বদলে যাচ্ছে এবং এই খাতের মূল খেলোয়াড়দের মধ্যেও পরিবর্তন আসছে। আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশিয়া, ইউরোপ এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোর চরম নাজুক পরিস্থিতি বিকল্প জ্বালানি খোঁজার প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করেছে।
কোনো কোনো দেশে, যেমন দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে এর ফলে কয়লার মতো পরিবেশ দূষণকারী জ্বালানির ব্যবহার সাময়িকভাবে বেড়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে, মাত্র চার বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো আসা এই জ্বালানি ধাক্কা দেশে দেশে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তির দিকে যাওয়ার রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে।
লন্ডনভিত্তিক জ্বালানিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এম্বার’র বিশেষজ্ঞ ড্যান ওয়াল্টার বলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময়ের তুলনায় বর্তমানে বৈদ্যুতিক ব্যাটারির প্রযুক্তি এবং কার্যকারিতার ব্যাপক উন্নয়ন এই রূপান্তরকে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বের অনেক জায়গাতেই বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) এখন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসছে।
এ ছাড়া গত এপ্রিল মাসে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে বায়ু ও সৌরশক্তি থেকে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।
ওয়াল্টার বলেন, এটি একটি মস্ত বড় পরিবর্তন। পাঁচ বছর আগেও যে খাত প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াই করছিল, এখন তা স্পষ্টতই অনেক বেশি সস্তা হয়ে উঠেছে। তিনি আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এখন অনেক বেশি নিরাপদ ও লাভজনক হয়ে উঠেছে, যেখানে আগে বিনিয়োগের টাকা ফেরত পেতে ৩০ বছর লাগত, এখন তা প্রায় দুই বছরের মধ্যেই উঠে আসছে।
জালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যেও বদল আসছে। এই যুদ্ধ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে আমিরাত তেল উৎপাদনকারীদের জোট ‘ওপেক প্লাস’ ত্যাগ করেছে। জোট থেকে আমিরাতের এই বেরিয়ে যাওয়ার আসল প্রভাব এই অঞ্চলে তেলের উৎপাদন পুনরায় পুরোদমে শুরু হলেই কেবল টের পাওয়া যাবে। তবে তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক’ দুর্বল হয়ে পড়লে, তা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
আমিরাতের সঙ্গে এই বিভক্তি সৌদি আরবকে রাশিয়ার আরও কাছাকাছি যেতে উৎসাহিত করেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চলতি মাসে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত একটি অর্থনৈতিক ফোরামে সৌদি কর্মকর্তাদের ‘গেস্ট অব অনার’ বা সম্মানিত অতিথি হিসেবে আপ্যায়ন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়াÑইরান যুদ্ধের কারণে অন্যান্য দিক থেকেও লাভবান ও শক্তিশালী হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে রাশিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যার ফলে ধুঁকতে থাকা নিজস্ব অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে তেল রফতানি থেকে বড় অঙ্কের মুনাফা করার সুযোগ পেয়েছে মস্কো।
আটলান্টিক মহাসাগরের অপর পাড়ে, বিশ্ব যখন বিকল্প জ্বালানি সরবরাহকারী খুঁজছে তখন ব্রাজিল, ভেনিজুয়েলা, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা এবং গায়ানা তাদের তেল উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে চলেছে।
সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী চীন : এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ এবং এর বৈচিত্র্যকরণের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। আর নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই সম্ভাব্য জোয়ার থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে চীন।
উইন্ড টারবাইন (বায়ুকল), হাই-ভোল্টেজ ক্যাবল, ট্রান্সফরমার, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি এবং জ্বালানি প্রবাহ ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যারসহ যাবতীয় আধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীন বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বহুগুণ এগিয়ে রয়েছে। অন্যান্য দেশের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চীনের এই ক্রমবর্ধমান ভূমিকা, দেশটির কৌশলগত প্রভাব এবং বৈশ্বিক গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষকদের চূড়ান্ত মূল্যায়ন হলো, চীন এই পরিস্থিতিতে একচেটিয়া বিজয়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পগুলো বন্ধ করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী তৎপরতাÑ এমনকি উইন্ড ফার্ম বা বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলের জন্য কোম্পানিগুলোকে অর্থ দেওয়ার মতো ঘটনাÑ ইঙ্গিত করে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মূলত এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে এবং তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীর (চীন) হাতে শিল্প ও প্রযুক্তির একচ্ছত্র সুবিধা ছেড়ে দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক এই সুবিধার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক সুবিধাও চীনের অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে। এই যুদ্ধ ইউরোপের দীর্ঘদিনের মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা চীনকে আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে নিজের ভূমিকা আরও বড় করার একটি সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে।
আস্থা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে : পারস্য উপসাগর থেকে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অন্যান্য মালামাল পরিবহনের একমাত্র সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো আর কখনোই আগের মতো অবাধে চলাচল করতে পারবে কি না, তা নিয়েও গভীর সংশয় রয়েছে। আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ইরান এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ফি বা টোল আরোপের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে। এমনকি এই নতুন ফি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর না হলেও, ইরান বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা যখন খুশি তখন বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করতে পারে, যা এই রুটে ঝুঁকি এবং খরচ উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মরিস অবস্টফেল্ড বলেন, আমার মনে হয় না যে এই প্রণালিটি আর কখনোই আমাদের চিরচেনা অবাধ ও নিশ্চিত যাতায়াতের অবস্থায় ফিরে যাবে। একইভাবে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি, স্থায়িত্ব এবং ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির ওপর যে আস্থা ছিল, তাও মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেয়েছে।
অবস্টফেল্ড বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিগুলো যে চরম নাজুকতা প্রদর্শন করেছে, তার ফলে তাদের অর্থনৈতিক গতিশীলতা নষ্ট হতে পারে এবং এটি এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব অনেক বাড়িয়ে দেবে। যুদ্ধ চলাকালে ইরান তার প্রতিবেশী কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর ক্ষতি ছিল ব্যাপক, যা দেশটির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি ক্ষমতার ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সেও হামলা চালানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের জন্য যারা নিজেদের একটি বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্র, বাণিজ্য হাব এবং শীর্ষ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে তাদের পাঁচ তারকা হোটেল, ডেটা কমপ্লেক্স এবং একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করে দূরে ঠেলে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং তার বিশৃঙ্খল নীতি নির্ধারণী মনোভাব বৈশ্বিক শৃঙ্খলা ও বাণিজ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সদিচ্ছা ও ক্ষমতার ওপর থাকা আন্তর্জাতিক আস্থাকে অনেকটাই ধূলিসাৎ করেছে।
অবস্টফেল্ড মন্তব্য করেন, একটি সামরিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা যে অত্যন্ত সীমিত, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। আর এই যুদ্ধে ইরানের ক্রমাগত প্রতিরোধ ‘নিরাপত্তা প্রদানকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বৈশ্বিক যে আস্থা ছিল, তার ওপর এক মস্ত বড় আঘাত।’
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মার্ক ব্লিথ বলেন, কয়েক দশক ধরে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান মিশন ছিল সমুদ্রে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তবে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখার ক্ষেত্রে ইরানের সাফল্য এটিই প্রমাণ করেছে যে, চরম সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রপথ উন্মুক্ত ও মুক্ত রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
চলতি বছরের শুরুতে যখন বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদরা বৈশ্বিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ শুরু করেছিলেন, তখন তারা বেশ ইতিবাচকভাবে বিস্মিত হয়েছিলেন। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল বলেন, জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতি এতটা আশাব্যঞ্জক ছিল যে আমরা আমাদের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের সূচক আরও বাড়ানোর কথা ভাবছিলাম। মূল্যস্ফীতি কমছিল, প্রবৃদ্ধি বাড়ছিল এবং বড় বড় ধাক্কা সামলে বিশ্ব বাণিজ্য তখনও শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে ছিল।
কিন্তু এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে তাদের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সংশোধন করে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে। সংস্থাটি এখন প্রাক্কলন করছে যে, চলতি বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২.৫ শতাংশে নেমে আসবে, যা ২০২৫ সালে ছিল ২.৯ শতাংশ।
এদিকে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতিও নতুন করে ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে টানা তৃতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি বেড়ে গত মে মাসে ৪.২ শতাংশে পৌঁছেছে। আর সুদের হার কমানোর পরিকল্পনার পরিবর্তে ওয়াল স্ট্রিট এখন আশা করছে, ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছর সুদের হার অন্তত আরও একবার বাড়াবে। গত সপ্তাহে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) সুদের হার বাড়িয়ে ২.২৫ শতাংশ করেছে। ব্যাংকটি সাফ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করছে।
এই উচ্চ সুদের হার ধনী-দরিদ্র উভয় দেশের জন্যই দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যারা ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ সরকারি ঋণের জালে জর্জরিত এবং তাদের অর্জিত রাজস্বের একটি ক্রমবর্ধমান অংশ কেবল ঋণের সুদ পরিশোধের পেছনেই ব্যয় করতে হচ্ছে।
এই বাজেট বা আর্থিক চাপ আরও বাড়বে, কারণ সরকারগুলোকে একদিকে চড়া জ্বালানি মূল্যের ধাক্কায় হিমশিম খাওয়া সাধারণ মানুষকে ভর্তুকি বা আর্থিক সহায়তা দিতে হচ্ছে, আর অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সামরিক বাজেট বাড়াতে হচ্ছে।
এই সংকটে সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত এশিয়ার অর্থনীতিগুলো ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব থেকে তাদের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতকে বাঁচাতে ইতিমধ্যেই জরুরি ঋণের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংককে (এডিবি) অনুরোধের বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে।
ইন্দরমিত গিল সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি শেষ পর্যন্ত আরও বেশি ভঙ্গুর ও অস্থির হয়ে উঠবে। আর এই ধরনের অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নতুন বিনিয়োগ কিংবা টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য মোটেও শুভকর নয়।
/এসএকে