হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে চলছে আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ ম্যাচ। কিন্তু সেই উত্তাপ যেন ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণেও।
বুধবার (১৭ জুন) খেলা শুরুর অনেক আগেই নীল-সাদা জার্সিতে সেজে ভিড় জমাতে শুরু করেন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিএসসি রূপ নেয় এক বিশাল ফুটবল মিলনমেলায়।
বিশ্বকাপ ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সমর্থকদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক উৎসবমুখর জনসমুদ্রে। বড় পর্দার সামনে জায়গা করে নিতে অনেককেই দেখা যায় খেলা শুরুর আগেই অবস্থান নিতে। বন্ধুদের পাশাপাশি পরিবার নিয়েও উপস্থিত হন অনেকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিটি আক্রমণে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে দর্শকদের মাঝে। তবে আনন্দের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায় যখন প্রথমার্ধে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন। গোলের সঙ্গে সঙ্গে পুরো টিএসসি প্রকম্পিত হয়ে ওঠে করতালি, স্লোগান আর উল্লাসে। এরপর প্রতিবার আর্জেন্টিনা আক্রমণে উঠলেই সমর্থকদের চিৎকারে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
আরও পড়ুন
শুধু আর্জেন্টিনা সমর্থকরাই নন, অন্য দলের সমর্থকদের মধ্যেও ছিল ম্যাচটি ঘিরে আগ্রহ। খেলা দেখতে আসা দর্শক হৃদয় বলেন, একটি দলের সমর্থক না হলেও এমন পরিবেশ উপভোগ করার মতো। বিশ্বকাপের আবহে সবাই একসঙ্গে খেলা দেখছে, সেটাই সবচেয়ে আনন্দের বিষয়।
সমর্থক লাবণ্যের মতে, টিএসসি এদিন কেবল একটি খেলা দেখার স্থান ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল ফুটবলপ্রেমীদের মিলনকেন্দ্র। তার ভাষায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষ ও পরিবার নিয়ে আসা দর্শকদের উপস্থিতি প্রমাণ করে বিশ্বকাপ ঘিরে উন্মাদনা কতটা বিস্তৃত। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারও যেন মেসির হাতেই ওঠে বিশ্বকাপের ট্রফি।
কানসাস সিটির মাঠে ম্যাচ চললেও আবেগ, উত্তেজনা আর উদযাপনের দিক থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে ছিল না টিএসসি। বিশ্বকাপের দিনে রাজধানীর এই প্রাণকেন্দ্র যেন ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অস্থায়ী স্টেডিয়ামে পরিণত হয়েছিল।
এএডি/