সাদা ক্যানভাসে রঙের আঁচড় কিংবা একটা চেনা অক্ষরের বাঁকে যখন নতুন কোনো নান্দনিকতা ফুটে ওঠে, তখন জন্ম নেয় শিল্প। আর সেই শিল্প যখন কর্পোরেট জগতের খোলস পেরিয়ে ব্যবসার ব্র্যান্ডিংয়ে আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করতে চায়, তখন তৈরি হয় নতুন এক গল্প। এমনই এক নতুন গল্পের সূচনা হলো রাজধানী ঢাকার বুকে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে পুরানা পল্টনে এক অনাড়ম্বর কেক কাটার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করলো নতুন বিজ্ঞাপনী ও সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ‘ডিগনিটি’। আর এই বিশেষ মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুস্তাফিজ শফি যখন কেক কেটে ‘ডিগনিটি’র উদ্বোধন করছিলেন, তখন চারপাশ মুখরিত ছিল শুভকামনার করতালিতে। ডিগনিটির অন্যতম উদ্যোক্তা শিল্পী কাজী যুবাইর মাহমুদের সাথে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা স্মৃতিরোমন্থন করতে গিয়ে মুস্তাফিজ শফি বলেন, ‘কাজী যুবাইর মাহমুদ আমার স্বল্প সময়ের সহকর্মী হলেও তার সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, নান্দনিক বোধ ও অসাধারণ কর্মদক্ষতার কারণে আমাদের সম্পর্ক অল্প সময়েই অত্যন্ত গভীর হয়েছে। তার অক্ষরশিল্পের গুণ আমাকে মুগ্ধ করেছে।’ তিনি যুবাইর মাহমুদের লেটারিং, টাইপোগ্রাফি ও ইলাস্ট্রেশনের মতো সূক্ষ্ম ও নান্দনিক প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং নবীন এই প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে শিল্প, সাহিত্য আর কর্পোরেট জগতের এক অপূর্ব মিলনমেলা সৃষ্টি হয়েছিল। কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও রাজনীতিক- সমাজের নানা স্তরের গুণী মানুষেরা উপস্থিত হয়ে ডিগনিটির এই নতুন যাত্রাকে স্বাগত জানান।
‘ডিগনিটি’র এই যাত্রার পেছনে যিনি মূল কারিগর, সেই কাজী যুবাইর মাহমুদ দেশের বাংলা টাইপোগ্রাফি, লেটারিং ও অক্ষরশিল্পের জগতে এক অত্যন্ত পরিচিত এবং নির্ভরযোগ্য নাম। তার হাত ধরে গড়ে ওঠা ‘লিপিকলা টাইপ ফাউন্ড্রি’ ইতোমধ্যে বাংলা ফন্ট ও টাইপফেসের দুনিয়ায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
বাংলা ভাষার চিরন্তন রূপকে আধুনিক ও নান্দনিক ফন্টে রূপ দিতে ওস্তাদ এই শিল্পী তৈরি করেছেন ‘দ্রোহ’র মতো তুমুল আলোচিত টাইপফেস। সম্প্রতি লিপিকলার প্রথম বর্ষপূর্তিতে একসঙ্গে ১২টি নতুন বৈচিত্র্যময় বাংলা ফন্ট উন্মুক্ত করে তিনি ডিজাইনার ও ভাষাভাষীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। এবার সেই অক্ষরের জাদুকরই নামলেন বিজ্ঞাপনী দুনিয়ার নতুন রূপরেখা আঁকতে।
চারপাশে যখন চটকদার বিজ্ঞাপনের ভিড়, তখন ‘ডিগনিটি’র উদ্যোক্তারা হাঁটতে চান একটু ভিন্ন পথে। তারা চান কেবল বিজ্ঞাপন নয়, বরং একটি ব্র্যান্ডের আত্মাকে ফুটিয়ে তুলতে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা জানান, ডিগনিটি মূলত ব্র্যান্ডিং, ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিটি, লোগো ও ব্র্যান্ড সিস্টেম উন্নয়ন, প্রিন্ট ও প্রকাশনা ডিজাইন, বিজ্ঞাপন ডিজাইন, কাস্টম ফন্ট ও করপোরেট টাইপফেস নির্মাণ, ক্যালিগ্রাফি, ইলাস্ট্রেশন, শিশুতোষ বইয়ের অলংকরণ, ক্যাম্পেইন আর্টওয়ার্ক, মুরাল, প্রিন্ট প্রোডাকশন এবং বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল যোগাযোগ কার্যক্রম নিয়ে কাজ করবে। তারা জানান, কৌশল, সৃজনশীলতা ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে দেশীয় ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ভিজ্যুয়াল সমাধান তৈরিই ডিগনিটির মূল লক্ষ্য।
/কহু