রাজধানীতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আস-সুন্নাহ ক্যারিয়ার সামিট ২০২৬’। শনিবার (২৯ আগস্ট) আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সামিটে প্রতিষ্ঠানটির স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন কোর্সের বর্তমান শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও প্রশিক্ষকেরা অংশ নেন।
ক্যারিয়ার ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে আয়োজিত সামিটে মার্কেটিং ও উদ্ভাবন, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল উপস্থিতি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার প্রস্তুতি এবং চাকরির সাক্ষাৎকারের কৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও করপোরেট বিশেষজ্ঞরা এসব সেশনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন।
সেশন পরিচালনাকারীদের মধ্যে ছিলেন একিক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল, লাইফ ও বিজনেস কোচ জাভেদ পারভেজ, স্টারকম বাংলাদেশের গ্রুপ ডিরেক্টর মোহাম্মদ সারওয়ার বিন আনিস এবং টু সেন্টস পডকাস্টের নাফিস সালিমসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহমেদ বলেন, তাঁদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী থেকে উঠে এসেছেন। ফলে মানসম্পন্ন পেশাগত সেশন এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ অনেকেরই সীমিত।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সেই দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থীদের অর্জিত দক্ষতাকে আরও সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী করাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের যোগাযোগ ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ফারিদ উদ্দিন খান বলেন, একটি কোর্স শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের শেখার পথ যেন থেমে না যায়, সে লক্ষ্যেই পেশাগত নেটওয়ার্ক, মেন্টরশিপ ও পরবর্তী পর্যায়ের শেখার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ক্যারিয়ার সামিট সেই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই অংশ। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ২০২৪ সালে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ১৭৯ জনকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়। প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তিরা পরবর্তী এক বছরে, অর্থাৎ ২০২৫ সালে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪২ কোটি টাকা আয় করেছেন।
আয়োজকদের মতে, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির এ ধরনের ফলাফল দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।
সময়ের আলো/এসএকে