বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিশ্বের ১৬১টি দেশ ভ্রমণ করা বিশ্বপর্যটক কাজী আসমা আজমেরী বলেছেন, ভ্রমণ শুধু নতুন জায়গা দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষ, সংস্কৃতি ও পৃথিবীকে জানার অন্যতম মাধ্যম। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত করে বলেও মনে করেন তিনি।
ঢাকা এফএম ৯০.৪-এর জনপ্রিয় ভ্রমণভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘লেটস গো উইথ আর জে হাসিব’-এর বিশেষ পর্বে নিজের বিশ্বভ্রমণের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কথা বলেন আসমা আজমেরী।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। ভিসা পাওয়ার জটিলতা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, একা ভ্রমণ নিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক নানা প্রশ্ন এবং নারী হিসেবে বিদেশে ভ্রমণের সময় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথাও জানান এই বিশ্বপর্যটক।
আসমা আজমেরী বলেন, স্বপ্ন পূরণের পথে অনেক সময় বাইরের পরিস্থিতির চেয়ে নিজের ভয় ও আত্মবিশ্বাসের অভাবই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই তরুণদের নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার পাশাপাশি নতুন কিছু শেখার জন্য পরিচিত গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
নারীদের একা ভ্রমণ ও আত্মনির্ভরতার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন আসমা আজমেরী। তাঁর মতে, একজন নারী নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করলে জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারেন। তাঁর নিজের জীবনেও ভ্রমণ আত্মবিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরে শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, সেখানকার মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সামাজিক বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করেছেন আসমা। তাঁর কাছে প্রতিটি ভ্রমণই ছিল নতুন কিছু শেখার সুযোগ।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বপ্ন কখনো ছোট করে দেখা উচিত নয়। বড় স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন ধৈর্য, সাহস ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। লক্ষ্য ঠিক থাকলে কঠিন পথও ধীরে ধীরে পাড়ি দেওয়া সম্ভব।
ভ্রমণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্ন-সবুজ পৃথিবী গড়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, ভ্রমণের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতি বাড়ানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে নিজের মোটিভেশনাল স্পিকিংয়ের অভিজ্ঞতাও জানান আসমা আজমেরী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও নারীকে অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি ৮০০টিরও বেশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
এ ছাড়া খুলনায় শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ উদ্যোগে পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কথাও জানান তিনি। বই পড়া, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আর জে হাসিব। প্রাণবন্ত কথোপকথনে আসমা আজমেরীর ১৬১ দেশ ভ্রমণের পেছনের সংগ্রাম, একজন নারী ভ্রমণকারী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের প্রতি তাঁর বার্তা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানটির ভিডিও পডকাস্ট ঢাকা এফএমের ইউটিউব ও ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ঢাকা এফএম অ্যাপের মাধ্যমেও অনুষ্ঠানটি উপভোগ করা যাবে।
সময়ের আলো/এসএকে