সাধারণত একটি সুস্থ বিড়ালের চার পায়ে মোট ১৮টি আঙুল থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে এমন একটি বিড়ালের সন্ধান মিলেছে, যার চার পায়ে রয়েছে অবিশ্বাস্যভাবে ২৯টি আঙুল। বিরল এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সুবাদে ২৪ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছে বিড়ালটি।
মেইন কুন জাতের পুরুষ বিড়ালটির নাম রাখা হয়েছে ‘ইরেবাস অ্যানোমালি’। এর মালিক মার্কিন দম্পতি কেন্ড্রা ভ্যানডেনব্লুমার ও হান্টার নেট। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইরেবাসের ২৯টি আঙুল থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
অতিরিক্ত ১১টি আঙুলের কারণে ইরেবাসের থাবা সাধারণ বিড়ালের তুলনায় বেশ বড়, চওড়া ও দেখতে কিছুটা আলাদা। তবে এত বেশি আঙুল থাকা সত্ত্বেও তার স্বাভাবিক হাঁটাচলা কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাপনে বিন্দুমাত্র সমস্যা হচ্ছে না।
জন্মগতভাবে অতিরিক্ত আঙুল বা অঙ্গ থাকার এই জিনগত বৈশিষ্ট্যকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘পলিড্যাক্টাইলি’ বলা হয়। মেইন কুন জাতের বিড়ালদের মধ্যে মাঝেমধ্যে পলিড্যাক্টাইলির লক্ষণ দেখা গেলেও ২৯টি আঙুলের ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
এর আগে ২০০২ সালে কানাডার ‘জেক’ নামের একটি বিড়াল ২৮টি আঙুল নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই রেকর্ড অক্ষুণ্ণ ছিল। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ‘টোবি’ নামের আরেকটি বিড়াল ২৮টি আঙুল নিয়ে যৌথভাবে সেই রেকর্ডে ভাগ বসায়। তবে এবার সবাইকে ছাড়িয়ে ২৯টি আঙুল নিয়ে এককভাবে রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছে ইরেবাস।
ইরেবাসের মালিক এই দম্পতি মেইন কুন জাতের বিড়াল প্রজনন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাদের নিজস্ব প্রজনন প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ব্লু নর্দার্ন মেইন কুনস’। তারা জানান, জন্মের পরপরই ইরেবাসের পায়ের অস্বাভাবিক গঠন দেখে তাদের মনে হয়েছিল— বিড়ালটি হয়তো আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। অবশেষে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তাদের সেই ধারণাই সত্য হলো।
সময়ের আলো/জোই