উচ্চমানের গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ১৭ জন শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা দিয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ২ শতাংশ কিউ-ওয়ান জার্নালে গবেষণা প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের ‘টপ ২% ব্র্যাকইউ রিসার্চার’ সম্মাননা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘কোয়ালিটি জার্নাল পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয়।
টানা তৃতীয়বারের মতো এই সম্মাননা দেওয়া হলো। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘প্রমোটিং রিসার্চ এক্সেলেন্স’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২৮টি কিউ-ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ পুরস্কারের আওতায় এসেছে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৪৫টি। ফলে এক বছরের ব্যবধানে নির্বাচিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ। এর মধ্যে ১২৪টি প্রবন্ধ নিজ নিজ বিষয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০ শতাংশ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ১০৪টি প্রবন্ধ কিউ-ওয়ান শ্রেণির অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় জার্নালে প্রকাশিত হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক-গবেষকরা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো কেন ব্যাংকের তুলনায় বেশি সুদ নেয়, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় কমানোর কৌশলসহ সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা করেছেন।
অনুষ্ঠানে সেন্ট্রাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন অফিসের পরিচালক প্রফেসর মলয় কান্তি মৃধা বলেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ২১ হাজার ৯১৯টি গবেষণা প্রকাশনার মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির গবেষকদের অবদান ছিল।
স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন প্রফেসর সামিয়া হক বলেন, তৈরি পোশাক খাত নিয়ে পরিচালিত গবেষণা মজুরি পর্যালোচনার উপযুক্ত সময় নির্ধারণে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে এ খাতের মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় কারা কাজ করেন, সে বিষয়েও গবেষণাটি ধারণা দিয়েছে।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারপারসন প্রফেসর সাদিয়া হামিদ কাজী বলেন, স্যামসাং আরঅ্যান্ডডি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের অর্থায়নে ভিডিও প্রসেসিং গবেষণা প্রকল্প এবং ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন’ কর্মসূচির আওতায় আটটি উন্নত আইসি কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে শিল্পখাত ও দেশের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি।
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ড. লরা জে রাইখেনবাখ বলেন, তাদের গবেষণার ফলাফল বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অসংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করছে। জাতীয় মডেল ফার্মেসি কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রেও এসব গবেষণা ভূমিকা রেখেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মাসুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও পাঠদানকে পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন জ্ঞান তৈরির প্রক্রিয়াতেও যুক্ত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির গবেষণা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখছে। একই সঙ্গে গবেষণার এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, আমরা অনেক সময় জ্ঞান ও গবেষণার জন্য বাইরের দিকে তাকাই। কিন্তু আমাদের কাছে ব্র্যাক রয়েছে, আর ব্র্যাকের রয়েছে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার। এই জ্ঞান আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। সমাপনী বক্তব্য দেন রিসার্চ মেট্রিকস কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর এ কে এম আবদুল মালেক আজাদ। এ সময় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের উপদেষ্টা লেডি সৈয়দা সারওয়াত আবেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমেরিটাস এএফএম ইউসুফ হায়দার এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন স্কুল ও বিভাগের ডিন, চেয়ারপারসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/কেএইচও