ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে মজার মন্তব্য করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। দুজনকে তাদের ভাইরাল ‘মেলোদি’ মুহূর্ত নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে দেখা যায়।
সম্মেলনের এক পর্যায়ে ধারণ করা একটি ভাইরাল ‘হট মাইক’ ভিডিওতে মেলোনিকে মোদিকে বলতে শোনা যায়, আমরাই ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি। এরপর দুজনকে হাসিমুখে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিভিন্ন সরকারি সফরেও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
‘মেলোদি’ মুহূর্তের গল্প
মেলোনির এই মন্তব্যটি মূলত মে মাসে মোদির পাঁচ দেশ সফরের সময় ঘটে যাওয়া একটি ভাইরাল ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে। ইতালি সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারত থেকে নিয়ে যাওয়া ‘মেলোদি’ চকলেট মেলোনিকে উপহার দেন।
সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও দুজনই ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ (১৩ মিলিয়ন) লাইক অর্জন করে।
ভিডিওতে মেলোনিকে বলতে শোনা যায়, প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের জন্য একটি উপহার এনেছেন। খুবই, খুবই ভালো একটি টফি।
এরপর তিনি মিষ্টির প্যাকেটটি দেখান এবং হাসিতে ফেটে পড়েন।
দুই নেতার নাম মেলোনি এবং মোদি মিলিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ‘মেলোদি’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যা ইংরেজি ‘মেলোদি’ শব্দের মতো শোনায়। এই শব্দটি দুই নেতা এবং দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভারত-ইতালি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী
মিষ্টি আর মজার মন্তব্যের বাইরে, মোদি ও মেলোনির ঘন ঘন বৈঠক ভারত ও ইতালির ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কেরও প্রতিফলন।
দুই দেশ ২০২৫-২০২৯ যৌথ কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।
২০২৫ সালে ভারত-ইতালি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া ২০০০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে ইতালির মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) দাঁড়িয়েছে ৩.৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জি৭ নেতাদের যৌথ ঘোষণা
এদিকে জি৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা বৈশ্বিক মাদক পাচার চক্র, অর্থপাচার এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ দমনে আরও জোরালো যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ লক্ষ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা, অপরাধী চক্রের অর্থায়ন বন্ধ করা এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।
/ইউএমএইচ