কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই জাতিগত বাঙালি মুসলমানদের বাংলাদেশ সীমান্তে জোরপূর্বক ফেরত বা ‘পুশব্যাক’ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক এই সংস্থাটির দাবি, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে জোর করে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একাধিকবার মানুষকে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছে। পুশব্যাকের শিকার কিছু পরিবার ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যবর্তী সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো ম্যানস ল্যান্ড) দীর্ঘ সময় মানবেতর অবস্থায় আটকে ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের পঞ্চগড় সীমান্তে একটি পুশব্যাকের ঘটনায় প্রায় ৭৫ ঘণ্টা ধরে দুই দেশের সীমান্তে চরম অচলাবস্থা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কথিত অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করার নামে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অনেক ক্ষেত্রে পদ্ধতিগতভাবে ভোটার তালিকা থেকে স্থানীয় মুসলমানদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের আইনি সহায়তা বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাদের সরাসরি বহিষ্কারের মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাটির অভিযোগ অনুযায়ী, বিএসএফের হাতে আটক ও বহিষ্কৃতদের অনেকের কাছেই ভারতের বৈধ পরিচয়পত্র ছিল, যা যাচাই করারও কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, কোনো ধরনের বিচারিক বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এ ধরনের গণ-বহিষ্কার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট পরিপন্থি। সংস্থাটি ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের সরকারের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, অবিলম্বে এ ধরনের ‘পুশব্যাক’ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং সীমান্তে আটকে পড়া মানুষের জানমালের সুরক্ষা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তে মানুষের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও চলমান বিতর্ক নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এ ধরনের স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে বলপ্রয়োগের পরিবর্তে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি কঠোরভাবে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সময়ের আলো/জেডি