ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক হামলায় বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ‘গ্রক’ ব্যবহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির হাতে আসা মার্কিন সরকারের একটি গোপন নথি থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
মার্কিন আদালতে ইলন মাস্কের এআই প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’ নিয়ে চলমান একটি মামলার লিখিত সাক্ষ্যে পেন্টাগনের এআই প্রধান ক্যামেরন স্ট্যানলি এই তথ্য স্বীকার করেন।
ওই সাক্ষ্যে স্ট্যানলি শপথ নিয়ে বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত গোপনীয় ‘প্রজেক্ট ম্যাভেন’-এ ইতোমধ্যেই ‘গ্রক’ এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বিশেষ প্রোগ্রামটির কাজ হলো যুদ্ধের ময়দানে নিখুঁতভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) নির্ধারণ করা।
পেন্টাগনের এই কর্মকর্তা তার বিবৃতিতে জানান, এই প্রকল্পের ‘ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমস (এমএসএস)’ ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী তাদের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সময় মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ২ হাজারটি ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে হামলা চালাতে সক্ষম হয়। মাস্কের প্রযুক্তির প্রশংসা করে স্ট্যানলি বলেন, ‘গ্রক গভ মডেলের কারণে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের কার্যকারিতা ও গতি বহুগুণ বেড়ে গেছে।’
নথিতে দেখা যায়, ‘প্রজেক্ট ম্যাভেন’-এ শুরুতে পেন্টাগন আরেক শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের তৈরি ‘ক্লড’ মডেলটি ব্যবহার করত। কিন্তু পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় সামরিক হামলা কিংবা সাধারণ মানুষের ওপর গণনজরদারির কাজে নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারে কঠোর আপত্তি জানায় অ্যানথ্রোপিক কর্তৃপক্ষ। এই দ্বিমতের জেরে গত ফেব্রুয়ারির শেষে অ্যানথ্রোপিকের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে মার্কিন সরকার।
এরপরই পেন্টাগন সামরিক কার্যক্রমে এআই ব্যবহারের জন্য অ্যানথ্রোপিকের প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান গুগল, ওপেনএআই এবং ইলন মাস্কের এক্সএআইয়ের দিকে ঝোঁকে।
তবে পেন্টাগনের এই যুদ্ধমুখী নীতি নিয়ে সিলিকন ভ্যালিতে তীব্র অসন্তোষ চলছে। ইতোমধ্যেই গুগলের ৬০০-র বেশি কর্মী যৌথ দাবি তুলেছেন, কোম্পানিটি যেন সামরিক বাহিনীর এই গোপন ও প্রাণঘাতী কার্যক্রমে কোনো ধরনের এআই প্রযুক্তি সরবরাহ না করে।
সময়ের আলো/জেডি