ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৃহস্পতিবার মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার নিয়ে এসব দেশের অবস্থান “স্পষ্ট ও লজ্জাজনক ভণ্ডামি”। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের কারণে নৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা বলার সুযোগ তারা হারিয়েছে।
এদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, জুনে হওয়া একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি আবার কার্যকর করা এবং এর শর্তগুলো বাস্তবায়নের সময়সীমা ঠিক করার বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে একেবারেই কোনো অগ্রগতি হয়নি।
জুনের ওই চুক্তিতে সব পক্ষের সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ে। ৭ জুলাই ট্রাম্প চুক্তিটিকে শেষ বলে ঘোষণা করেন। এর এক সপ্তাহ পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, চুক্তিটি স্থগিত করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চুক্তির অধীনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার চালু করার প্রতিশ্রুতি ইরান পালন করেনি।
অন্যদিকে, তেহরানের দাবি—যুক্তরাষ্ট্রও তার প্রতিশ্রুতি রাখেনি। এর মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নেওয়া এবং দেশটির আটকে থাকা অর্থ ছাড়ার বিষয়ও রয়েছে।
ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ৬০ দিনের অন্তর্বর্তী সময় বাড়ানোর বিষয়েও কোনো আলোচনা নেই। তার দাবি, চুক্তি হওয়ার পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সেটি লঙ্ঘন করে এবং কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি থেকে সরে যায়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
তবে ইরানের হরমুজ প্রণালি কর্তৃপক্ষ বলেছে, জলপথটি এখনো বন্ধ রয়েছে এবং ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি খুলে দেওয়া হবে না।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে কটাক্ষ করে বলেন, ইরান শুধু কথা বলে, কাজ করে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরান ওমান, জর্ডান, কুয়েত, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ