হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন কারোলিন লেভিট। গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, পরিবার ও সন্তানদের আরও বেশি সময় দেওয়ার জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
লেভিট হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রেস সেক্রেটারি। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের মাত্র দুই মাস পর তিনি আবারও হোয়াইট হাউসে কাজে ফিরেছিলেন।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকাকালীনই পদ ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন লেভিট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিত তাকে ফোন করে কবে কাজে ফিরবেন জানতে চাইতেন। তবে সবদিক বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন লেভিট।
জুলাইয়ে কাজে ফেরার পর তিনি চরম মানসিক চাপ ও বার্নআউটে ভুগছিলেন বলেও জানান তার ঘনিষ্ঠরা।
একজন সূত্র ডেইলি মেইলকে বলেন, সন্তানদের সামলে এই কাজ করা অত্যন্ত চাপের ছিল। ঘুমেরও ঘাটতি হচ্ছিল। একই সঙ্গে নিজের কর্মদক্ষতায় যেন কোনো প্রভাব না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করতে চাইছিলেন লেভিট। তাই যতদিন সম্ভব দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। তবে লেভিটকে ধরে রাখতে ট্রাম্প সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন সূত্রগুলো।
একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলেন, ট্রাম্প লেভিটকে হারাতে চাননি। কারণ তিনি তার ওপর আস্থা রাখেন এবং কাজের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নতুন কাউকে নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে আনতে চান না।
লেভিট পদ ছাড়ার জন্য প্রস্তুত থাকলেও ট্রাম্পের সম্মতি নিয়েই সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের সহযোগী স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার বলেন, সন্তান জন্মের পর মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার বদলে যেতে পারে। ছোট সন্তানদের বেড়ে ওঠার সময়টি জীবনে একবারই আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লেভিটের পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প। পরিবারকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, লেভিট হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।
এ ছাড়া নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির জন্যও লেভিট গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী কণ্ঠ হয়ে থাকবেন বলে জানান ট্রাম্প।
তিনি লেভিটকে হোয়াইট হাউসে একজন ‘প্রকৃত নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তার কাজের প্রশংসা করেন। ২০১৮ সাল থেকে ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে তার ভূমিকারও প্রশংসা করেন ট্রাম্প।
সময়ের আলো/কেএইচ