ইংলিশ চ্যানেলে একটি ব্রিটিশ ইয়টকে (বিলাসবহুল পালতোলা নৌকা) লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইংলিশ চ্যানেলে যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী একটি ইয়ট তাদের যুদ্ধজাহাজের দিকে এগিয়ে আসছিল। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ইয়টটির কয়েক শ গজ সামনে এই সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়।
এই ঘটনায় ইয়টটিতে থাকা কারও হতাহত হওয়া বা কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর নৌযানটি নিজের যাত্রা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের একটি সামরিক ফ্রিগেটের নাবিকেরা ‘ব্রাইট ফিউচার’ নামের একটি বেসামরিক ব্রিটিশ ইয়টকে দেখতে পান। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইয়টটি একটি ‘বিপজ্জনক পথে’ এগোচ্ছিল, যা এটিকে রুশ যুদ্ধজাহাজটির খুব কাছাকাছি নিয়ে আসছিল।
মন্ত্রণালয় জানায়, রেডিওর মাধ্যমে ইয়টটির নাবিকদলের সঙ্গে যোগাযোগের বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ইয়টটি একই গতিপথে এগিয়ে চলায় রুশ নাবিকদল সেটির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রথমে সংকেত ফ্লেয়ার (আলোকবর্তিকা) নিক্ষেপ করে। কিন্তু এরপরও পালতোলা নৌকাটি বিপজ্জনকভাবে এগোতে থাকে এবং একপর্যায়ে যুদ্ধজাহাজের মাত্র ১৫০ মিটারের মধ্যে চলে আসে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রুশ ফ্রিগেটের কমান্ডার জাহাজের ছোট অস্ত্র ব্যবহার করে নৌযানটির গতিপথ বরাবর সতর্কতামূলক গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই ইয়টটি রুশ জাহাজ থেকে দূরে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ফ্রিগেট ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ’-এর নাবিকদল আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে কাজ করেছে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার (১৬ জুন) জানিয়েছেন, সতর্কতামূলক গুলিগুলো যুক্তরাজ্যের জাহাজটিকে সরাসরি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়নি, বরং এটি ছিল ‘একটি সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর প্রচেষ্টা’। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের নিজস্ব জলসীমার বাইরে, আইল অফ ওয়াইটের ২০ মাইল (৩২ কিলোমিটার) দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যার মাত্র দুই দিন আগে ইংলিশ চ্যানেলে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার একটি তেল ট্যাঙ্কার আটক করে যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের মতে, ওই ট্যাঙ্কারটি রাশিয়ার ‘গোপন নৌবহরের’ (শ্যাডো ফ্লিট) সঙ্গে যুক্ত ছিল।
তবে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এই দুই ঘটনার মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাননি।
সময়ের আলো/জেডি