বৈশ্বিক নানা সংকট, ইউক্রেন পরিস্থিতি কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক চুক্তি— ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এ চলমান জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের মূল এজেন্ডা এগুলোই। কিন্তু বিশ্বরাজনীতির এই মারপ্যাঁচের মাঝেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সব আলো কেড়ে নিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। নেটিজেনদের অতি পরিচিত সেই ‘মেলোডি’ ম্যাজিক যেন আবারও নতুন রূপে ফিরে এলো ফ্রান্সের মাটিতে।
শীর্ষ সম্মেলনের গ্রুপ ছবির জন্য যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য বিশ্বনেতারা সারিবদ্ধ হচ্ছিলেন, ঠিক তার আগের মুহূর্তের একটি ভিডিও এখন নেট দুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। ভিডিওতে দেখা যায়, মোদী ও মেলোনি একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে করমর্দন করছেন। চারপাশের কোলাহলে অডিও স্পষ্ট না হলেও, অঙ্গভঙ্গি দেখে বোঝা যায়— মোদী তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয়তার বিষয়টি মেলোনিকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন।
জবাবে বেশ রসিকতা করেই ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে বলতে শোনা যায়, হ্যাঁ, ইনস্টাগ্রামে আমরাই এখন সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি!
বিশ্বমঞ্চে এই দুই নেতার এমন হালকা মেজাজের আলাপ অবশ্য নতুন কিছু নয়। মাত্র এক মাস আগেই রোম সফরের সময় মেলোনিকে এক প্যাকেট ভারতের জনপ্রিয় ‘পার্লে মেলোডি’ চকলেট উপহার দিয়ে চমকে দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ইন্টারনেট দুনিয়ার ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডকে মাথায় রেখেই যে মোদীর এই ‘মিষ্টি’ কূটনীতি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
উপহারের সেই ভিডিওটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে মেলোনি লিখেছিলেন, উপহারের জন্য ধন্যবাদ। ভিডিওতে দেখা যায়, চকলেটের প্যাকেট হাতে দুই নেতাই হেসেই খুন। মেলোনিকে বলতে শোনা যায়, প্রধানমন্ত্রী মোদী আমার জন্য দারুণ এক উপহার এনেছেন। পাশ থেকে মোদী হাসিমুখে যোগ করেন, মেলোডি!
২০২৩ সালের একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মোদী এবং মেলোনির নাম মিলিয়ে রসাত্মকভাবে এই শব্দের জন্ম দেয় নেটিজেনরা। এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাদের মধ্যকার আন্তরিক ও স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্তগুলো নিয়ে তৈরি মিম ও ভিডিও কোটি কোটি ভিউ পেতে শুরু করে।
বিষয়টি বেশ উপভোগ করেন মেলোনি নিজেও। ২০২৪ সালে মোদীর সাথে একটি সেলফি পোস্ট করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, হাই ফ্রেন্ডস, ফ্রম #মেলোডি। এমনকি ২০২৫ সালের জি-৭ সম্মেলনের একটি সেলফি ভিডিওতেও তিনি ক্যাপশন দিয়েছিলেন, হ্যালো, ফ্রম দ্য মেলোডি টিম। এবারের ফ্রান্সের আসরও সেই চেনা রসায়নের ব্যতিক্রম হলো না।
তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোদী-মেলোনির এই রসায়ন কেবলই ক্যামেরার সামনের কোনো চমক বা ‘ফটো অপোর্চুনিটি’ নয়; বরং এটি দুই দেশের গভীর পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন। বর্তমানে ভারতের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক অংশীদার হয়ে উঠেছে ইতালি।
বিশেষ করে ‘ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর’-এর বাস্তবায়নে রোমকে ইউরোপের প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৬.৭৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত মাসেও পাঁচ দেশ সফরের শেষাংশে ইতালিতে মেলোনির আমন্ত্রণে এক নৈশভোজে অংশ নেন মোদী।
/কহু