ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া নতুন দ্বিপাক্ষিক চুক্তির খসড়া দেখার জন্য তেল আবিবের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তবে চুক্তি নিয়ে অভ্যন্তরীণ বা বৈশ্বিক সমালোচনা বন্ধ করার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন সমর্থন না থাকলে ইসরায়েল এতদিনে ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে যেত।
মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের চুক্তির মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে মুখে অবহিত করা হলেও, চুক্তির আসল খসড়া বা নথিপত্র তাদের হাত দেওয়া হয়নি।
রবিবার (১৪ জুন) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত এই প্রাথমিক চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়িয়েছে এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ তৈরি করেছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও জনসমক্ষে অস্পষ্টই রয়ে গেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এই সমঝোতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। ভ্যান্স এই কূটনীতিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এই আলোচনার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি ইরানের সঙ্গে কথা বলছে।
এর আগে ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে একতরফাভাবে সেই চুক্তি থেকে সরে আসেন এবং ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি প্রয়োগ করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে এবার নিজেই নতুন চুক্তির পথে হাঁটছেন ট্রাম্প।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি এটি পাঠানোর কথা কখনো ভাবিনি, কিন্তু আমি পাঠাবো। আমি চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠাবো।” তিনি আরও জানান, শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর তিনি একটি সংবাদ সম্মেলন করে চুক্তির প্রতিটি শব্দ পড়ে শোনাবেন, যাতে সংবাদমাধ্যম বিষয়টি সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে।
ইসরায়েলে তীব্র অসন্তোষ :
যুক্তরাষ্ট্র তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েলকে চুক্তির খসড়া না দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে এই ধারণাই জোরালো হচ্ছে যে, চুক্তিটি মূলত ইরানের পক্ষে গেছে। ইসরায়েলিদের দাবি, এই সমঝোতার ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অনেক সামরিক লক্ষ্যই অপূর্ণ থেকে গেছে।
দেশটির ডানপন্থী রাজনীতিবিদ ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান ইসরায়েলের ১০৩ এফএম রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই চুক্তি নিশ্চিতভাবে ইরানকে একটি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত করবে।” তবে তিনি বাস্তববাদী অবস্থান নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে ইসরায়েল তা মেনে চলতে বাধ্য।
লিবারম্যান বলেন, “আমেরিকানদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। অনেকে আশা করেন যুক্তরাষ্ট্র সবসময় ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করবে, কিন্তু বিষয়টি আসলে তেমন নয়।”
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি :
এই চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসা সামান্যতম সমালোচনার আভাস পেলেই ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জি-৭ সম্মেলনে কাতারের আমিরের পাশে বসে ট্রাম্প তেল আবিবকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র না থাকতো, তাহলে এখন ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্বই থাকতো না। ইসরায়েল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।”
ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দেয়, ইরানের সঙ্গে এই শান্তি চুক্তি এগিয়ে নিতে তিনি মিত্রদের কোনো ধরনের বাধা বা আপত্তি বরদাশত করবেন না।
সময়ের আলো/জেডি