সৌদি আরবের জিজান শহরে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে আগুন লাগার ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, জিজানের উপকূলীয় এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ জানানো হয়নি।
এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারাই ড্রোন হামলা চালিয়ে জিজানে আরামকোর স্থাপনাটিতে আগুন ধরিয়েছে।
হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানার সরকারের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক্সে দাবি করেন, ‘জিজানে আরামকোর তেল শোধনাগারে ড্রোন দিয়ে সফল ও নিখুঁত হামলা’ চালানো হয়েছে। সৌদি আরবের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশের আকাশসীমায় ড্রোন দিয়ে লঙ্ঘনের জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হুথিদের এ দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
গত মাসেও জিজানে আরামকোর স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছিল হুথিরা। একই সময়ে সৌদি আরবের প্রধান পশ্চিম উপকূলীয় তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবুর তেল স্থাপনাতেও হামলা চালানোর দাবি করে তারা।
আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক হামলায় কোম্পানিটির কিছু উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে দ্রুত তা স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হুথিদের এসব হামলায় ২০২২ সালে সৌদি আরবের সমর্থনে ইয়েমেন সরকার ও হুথিদের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি আরও চাপের মুখে পড়েছে।
২০১৪ সালে সানা দখল করে নেয় হুথিরা। গত মাসে তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণা করে বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে হুমকি দেয়।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যেই এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সময়ের আলো/কেএইচ