উত্তর কোরিয়ার দুই যুদ্ধবন্দীকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ এবং পরে এ বিষয়ে গোপনীয়তা চুক্তি থাকার কথা অস্বীকার করায় ইউক্রেনের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও ক্ষমা চেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এ দাবি জানানো হয়। প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ সচিব সিওং গি-হং এক বিবৃতিতে বলেন, ইউক্রেনের একতরফাভাবে হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ এবং পরে কোনো গোপনীয়তা চুক্তি ছিল না বলে ‘মিথ্যা ঘোষণা’ দেওয়ার ঘটনায় তারা গভীরভাবে দুঃখিত।
তিনি জানান, প্রয়োজন হলে এ ঘটনায় অতিরিক্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা পর্যালোচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার।
সিওং বলেন, যুদ্ধবন্দীদের হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে ইউক্রেন একাধিক মাধ্যমে সিউলের সঙ্গে বারবার আলোচনা করেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধও করেছিল কিয়েভ। ইউক্রেনের আশঙ্কা ছিল, বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ইউক্রেনীয় বন্দীদের সঙ্গে ওই দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে বিনিময়ের সুযোগ নষ্ট করা হয়েছে— এমন সমালোচনা তৈরি হতে পারে।
নিরাপত্তা, কূটনৈতিক ও মানবিক বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া হস্তান্তরের বিষয়টি গোপন রাখতে সম্মত হয়েছিল বলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়। বিশেষ করে যুদ্ধবন্দী এবং উত্তর কোরিয়ায় থাকা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ, পর্যাপ্ত আগাম পরামর্শ ছাড়াই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে দুই যুদ্ধবন্দীকে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ করেন। পরে কিয়েভ এ ধরনের কোনো গোপনীয়তা চুক্তি থাকার কথাও অস্বীকার করে।
সিওং গি-হং বলেন, ইউক্রেনের এ অস্বীকৃতি দুই দেশের সরকারের মধ্যে আস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি করেছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য জানতে দক্ষিণ কোরিয়ায় ইউক্রেনের দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তর করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই সেনা রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় আটক হয়েছিলেন।
এর কয়েক দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছিলেন, গোপনীয়তা চুক্তি লঙ্ঘন করে ইউক্রেন হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনায় বিষয়টি প্রকাশ না করাই সব দিক থেকে উপযুক্ত ছিল এবং দুই দেশ এ বিষয়ে গোপনীয় থাকার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ওই দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে আটক করে ইউক্রেনীয় বাহিনী। উত্তর কোরিয়া ২০২৪ সালে রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তা শুরু করার পর জীবিত অবস্থায় আটক হওয়া প্রথম উত্তর কোরীয় সেনা ছিলেন তাঁরা।
নিরাপত্তা ও উত্তর কোরিয়ায় থাকা তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়া এর আগে ওই দুই সেনার দেশে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার এক বিরোধী দলের আইনপ্রণেতার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই সেনা দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে আগ্রহ প্রকাশ করার পর তাঁদের হস্তান্তরের বিষয়ে সিউল ও কিয়েভের মধ্যে আলোচনা চলছিল।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগে দক্ষিণ কোরিয়া সমর্থন দিয়ে আসছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সময়ের আলো/কেএইচ