কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে নাটোর শহরের বড় হরিশপুর এলাকায় অবস্থিত ঢাকা-গামী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল। টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশ করলে এটি যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাল, তা বোঝার উপায় নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, টার্মিনালের অধিকাংশ অংশ কাদামাটিতে ভরে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যাত্রীদের কষ্ট করে বাসে উঠতে ও নামতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাসের পর মাস পানি জমে থাকে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। অনেক যাত্রী কাদা এড়িয়ে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতেও পড়ছেন।
নাটোর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের প্রাণকেন্দ্র বড় হরিশপুর বাস টার্মিনালটি ২০০৭ সালে নির্মিত হয় এবং তখন থেকেই এটি পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রায় চার বিঘা জমির ওপর নির্মিত এ টার্মিনালে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৮০টি বাস রাখা যায়। প্রতি বছর টার্মিনালটি ইজারা দেওয়া হয়। চলতি বছরও ৪৯ লাখ টাকার বেশি মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টার্মিনালের কাউন্টার ও দোকানঘর থেকে প্রতি মাসে ভাড়া আদায় করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টার্মিনাল নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অব্যবস্থাপনা, প্রভাবশালীদের দখলদারিত্ব এবং ড্রেন ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা ও সিঁড়ি নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই টার্মিনালজুড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
সিংড়া উপজেলার বামন গ্রামের যাত্রী সুশীল চন্দ্র পাল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালের এমন বেহাল অবস্থা চলছে। বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির কারণে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘রাজধানী ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এই বাস টার্মিনাল। অথচ এর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।’
হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার কোরবান আলী বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরুই হয়নি, এর মধ্যেই টার্মিনালে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের লাইনে সাতটি ভিআইপি কাউন্টার রয়েছে। কোনোভাবে সিঁড়ি ব্যবহার করে যাত্রীরা আসতে পারেন। কিন্তু অন্যান্য কাউন্টারের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসমালিকরা জানান, কাদা ও পানির কারণে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, যা পরিবহন ব্যবসার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি নিয়ে বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি। এমনকি জেলা প্রশাসকের সভাতেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তারা দ্রুত টার্মিনাল সংস্কার, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে নাটোর পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পৌরসভার সচিব আমিনুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। কীভাবে টার্মিনালকে আরও সুন্দর ও চলাচল উপযোগী করা যায় এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো যায়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।’
সময়ের আলো/এসএকে