দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট অ্যাসোসিয়েশেন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশন্সের (আসিয়ান) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে কূটনৈতিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে চায় রাশিয়া। রাশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর কাজানে দুইদিনব্যাপী আসিয়ান নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই এই আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে রাশিয়া-আসিয়ান সম্মেলনটি ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ, সমতাভিত্তিক এবং গঠনমূলক।
১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত আসিয়ান জোটে বর্তমানে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশ— ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ব্রুনেই, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া এবং পূর্ব তিমুর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাশিয়া এই জোটের সরাসরি সদস্যপদ না পেলেও ‘সংলাপ প্রতিনিধি’ হিসেবে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আসিয়ানের সঙ্গে যুক্ত আছে।
মূলত রাশিয়া-আসিয়ান কূটনৈতিক সম্পর্কের এই ৩৫ বছর পূর্তিতে কাজানে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সম্মেলনের মূল পর্বের পাশাপাশি পুতিন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র, ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসনাল বলকিয়াহ এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও সম্পন্ন করেছেন।
সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়া এবং আসিয়ান জোটের সদস্যরা এমন একটি বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার সমান থাকবে এবং কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ করবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, উভয় দেশ ও জনগণের পাশাপাশি সমগ্র ইউরেশীয় অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার স্বার্থে এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে যৌথ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে রাশিয়া।
পুতিন আরও বলেন, এই সম্মেলনে বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে যারা উপস্থিত আছেন, প্রতিটি রাষ্ট্রেরই নিজস্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন মডেল রয়েছে। রাশিয়া কখনো নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বা আদর্শ অন্যদের ওপর চাপাতে চায় না এবং পারস্পরিক এই শ্রদ্ধাবোধই মূলত তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের ফাঁকে বুধবার (১৭ জুন) আসিয়ান জোটের সদস্যরাষ্ট্রগুলো থেকে আসা শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন রুশ প্রেসিডেন্ট।
রাশিয়ার মাটিতে আসিয়ান জোটের এই দু’দিনের সম্মেলন পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণের অভূতপূর্ব নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন পুতিন।
সময়ের আলো/জেডি