জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে জরুরি মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো। শুক্রবার (২ অক্টোবর) এ বিষয়ে ফ্রান্সের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
ফ্রান্সের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের মজুত থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল ছাড়তে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলোকে আরও ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানির দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে মার্কিন ডিজেল রফতানি নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপকে একদিকে বাড়তে থাকা জ্বালানি ব্যয় কমানোর চেষ্টা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ সরবরাহ সংকট মোকাবেলায় জরুরি মজুত ধরে রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি ও ফ্রান্সকে জরুরি ডিজেল মজুত কমানোর জন্য চাপ দিয়েছে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রফতানি নিষিদ্ধ করতে পারে বলে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।
শুক্রবারের আলোচনায় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপের বড় দেশগুলোকে ২০ দিনের মধ্যে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল মজুত থেকে ছাড়ার দাবি জানিয়েছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহও চাপের মুখে পড়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং রাশিয়ার ডিজেল রফতানি নিষেধাজ্ঞার কারণে সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ মজুত বাড়াতে চীনের শোধনাগারগুলোও অক্টোবর মাসে জ্বালানি রফতানি স্থগিত করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
ইউরোপের প্রস্তাবিত ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল ছাড়ার পরিমাণ ইইউর মোট জরুরি ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। ইউরোস্ট্যাটের ২০২৫ সালের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিমাণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বছরের মোট ডিজেল ব্যবহারের প্রায় ৩ শতাংশের সমান।
একসময় ইউরোপ মূলত রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ডিজেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল আমদানির ওপর ইউরোপের নির্ভরতা বেড়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ