বিড়াল এমন একটি প্রাণী, যাকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসার ইতিহাস বহু পুরোনো। সেই ভালোবাসার শিকড় ইসলামের ইতিহাসেও গভীরভাবে প্রোথিত। ভালোবাসা ও সচেতন পোষ্য পরিচর্যার এ ধারণাকে সামনে রেখে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন সমাজসেবী ও মানবিক কর্মী মুহাম্মদ রাজ। তার উদ্যোগের নাম ‘মিয়াও মিয়াও ব্রিটিশ ক্যাটস’।
ইসলামী ঐতিহ্যে বিড়ালের প্রতি বিশেষ মমতার কথা বিভিন্ন বর্ণনায় উঠে এসেছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিড়ালকে স্নেহ করতেন এবং প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়েছেন। তার প্রিয় সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর নামের সঙ্গেও বিড়ালের প্রতি ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে। প্রাণীর প্রতি মমতার অনুপ্রেরণা থেকেই বিড়ালকেন্দ্রিক উদ্যোগ গড়ে তোলার কথা জানান রাজ।
মুহাম্মদ রাজ বর্তমানে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে মানুষের সেবার পাশাপাশি প্রাণীর প্রতিও তার আগ্রহ ও ভালোবাসা দীর্ঘদিনের।
তার এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য মূলত ব্রিটিশ শর্টহেয়ার জাতের বিড়াল নিয়ে কাজ করা। রাজ বলেন, ‘এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়; বরং বিড়ালপ্রেমীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও তথ্যসমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রচেষ্টা।’
উদ্যোক্তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে যথাযথ কাগজপত্র ও পেডিগ্রিসহ বিশুদ্ধ জাতের ব্রিটিশ শর্টহেয়ার বিড়াল সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি বিড়ালপ্রেমীদের জন্য যত্ন, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য এবং সঠিক তথ্য প্রদানের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জানা গেছে, আগামী ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে ‘মিয়াও মিয়াও ব্রিটিশ ক্যাটসের’ নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে বিড়ালের বিভিন্ন জাত, পরিচর্যা, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে অসুস্থ, আহত ও অবহেলিত প্রাণীদের সহায়তায় একটি প্রাণী উদ্ধার কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্যোগটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, পোষ্য প্রাণীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রাণীকল্যাণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
পরিকল্পনায় আরও রয়েছে একটি আধুনিক ক্যাট হোস্টেল, যেখানে প্রয়োজনে মালিকরা তাদের পোষা বিড়ালকে নিরাপদ পরিবেশে রেখে যেতে পারবেন। পাশাপাশি মানসম্মত ক্যাট ফুড ও অন্যান্য পোষ্যসামগ্রী সরবরাহের বিষয়েও কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে তাদের।
উদ্যোক্তাদের আশা, ‘মিয়াও মিয়াও ব্রিটিশ ক্যাটস’ কেবল একটি ক্যাটারি হিসেবেই নয়, বরং দেশের বিড়ালপ্রেমীদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সেবা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠবে।
সময়ের আলো/মহু