বিভিন্ন উন্নয়ন কিংবা সড়ক সংস্কারের কাজে অনেক সময়ই রাস্তা কাটা হয়। কখনো পানির লাইন, কখনো গ্যাস বা বিদ্যুত সংযোগ, আবার কোথাও ড্রেনেজের কাজ চলায় তৈরি হয় খানাখন্দ। এমন রাস্তায় দুর্ঘেটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এমন রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
গতি কমিয়ে গাড়ি চালান
কাটা, ভাঙাচোরা বা খানাখন্দপূর্ণ রাস্তায় গাড়ির গতি যত কম থাকবে, নিয়ন্ত্রণ তত সহজ হবে। বেশি গতিতে চলার সময় সামনে হঠাৎ গর্ত পড়লে, ব্রেক করেও গাড়ি সামলানো কঠিন হতে পারে। তাই এমন রাস্তায় ঢোকার আগেই গতি কমিয়ে নিন। প্রয়োজন হলে প্রথম বা দ্বিতীয় গিয়ারে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান।
সামনের গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্ব রাখুন
সামনের গাড়ির একেবারে কাছাকাছি থেকে চলা ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো গাড়ি হঠাৎ গর্ত এড়িয়ে দিক পরিবর্তন করলে, আপনার প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমে যেতে পারে। তাই সবসময় পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখুন। এতে সামনের গাড়ির গতিবিধি বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের গাড়ির দিক পরিবর্তন করার সুযোগ পাবেন।
পানিভর্তি গর্তে বাড়তি সতর্কতা
বৃষ্টির পর গর্তে পানি জমে গেলে সেটির গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে যায়। অল্প পানি মনে হলেও নিচে বড় বা গভীর গর্ত থাকতে পারে। তাই সম্ভব হলে পানিভর্তি অংশ এড়িয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করুন। অন্য কোনো গাড়ি নিরাপদে সেই অংশ পার হলে, তার গতিবিধি দেখে গর্তের অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নিতে পারেন।
শেষ মুহূর্তে জোরে ব্রেক করবেন না
সামনে গর্ত দেখেই হঠাৎ জোরে ব্রেক করলে, পেছনের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হতে পারে। ভেজা রাস্তায় আকস্মিক ব্রেক করলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কাও থাকে। তাই রাস্তার অবস্থা খারাপ বুঝতে পারলে, আগে থেকেই গতি কমিয়ে নিন। গর্তের একেবারে কাছে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে আগেই নিরাপদ পথ ঠিক করে নিন।
রাতে হেডলাইট ঠিকভাবে ব্যবহার করুন
রাতে রাস্তার গর্ত বা কাটা অংশ শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়। তাই গাড়ির হেডলাইট, ব্রেক লাইট ও ইন্ডিকেটর ঠিকমতো কাজ করছে কি না, নিয়মিত পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন ছাড়া হাই বিম ব্যবহার না করে এমন আলো ব্যবহার করুন, যাতে সামনে রাস্তার অবস্থা ও অন্যান্য যানবাহন স্পষ্ট দেখা যায়।
সতর্কতামূলক চিহ্ন ও ব্যারিকেড মানুন
সড়ককাজের এলাকায় অনেক সময় বাঁশ, ব্যারিকেড, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা লাল বাতি দিয়ে বিপদ সংকেত দেওয়া থাকে। এসব চিহ্ন উপেক্ষা করে দ্রুত পাশ কাটানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। ব্যারিকেডের বাইরে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নির্মাণস্থলে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
টায়ার, রিম ও সাসপেনশন পরীক্ষা করুন
খানাখন্দপূর্ণ রাস্তায় নিয়মিত গাড়ি চালালে টায়ার, রিম ও সাসপেনশনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই নিয়মিত টায়ারের বাতাসের চাপ পরীক্ষা করুন এবং টায়ারে ক্ষয়, ফাটল বা অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না দেখুন। গাড়ি থেকে অস্বাভাবিক শব্দ পাওয়া গেলে কিংবা স্টিয়ারিংয়ের আচরণে পরিবর্তন অনুভব করলে, দ্রুত গাড়ি পরীক্ষা করানো ভালো।
পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকদের দিকে নজর রাখুন
রাস্তা কাটা বা সরু হয়ে গেলে গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিকশা ও পথচারীকে একই অংশ দিয়ে চলাচল করতে হতে পারে। এ অবস্থায় কেউ হঠাৎ সামনে চলে আসতে পারেন। বিশেষ করে গর্ত এড়াতে মোটরসাইকেল বা রিকশা আচমকা দিক পরিবর্তন করতে পারে। তাই আশপাশের যানবাহন ও পথচারীদের গতিবিধির দিকে সবসময় সতর্ক নজর রাখুন।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, কয়েক মিনিট সময় বাঁচানোর চেয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় সতকর্তার সঙ্গে গাড়ি চালানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
সময়ের আলো/মহু