ত্বকের স্বাভাবিক রং বদলে আরও ফর্সা হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় অনেকেই নানা ধরনের ক্রিম, সিরাম, ফেসিয়াল ও ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করেন। দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বাজারের বিভিন্ন ‘ফেয়ারনেস’ বা ত্বক ফর্সাকারী পণ্য ব্যবহার করেন।
কিন্তু এসব পণ্যের কিছু উপাদান দীর্ঘদিন বা ভুলভাবে ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। দেখা দিতে পারে ব্রণ, র্যাশ, জ্বালাপোড়া, ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক কালচে দাগসহ নানা সমস্যা।
ত্বকের রং মূলত মেলানিন নামের রঞ্জকের পরিমাণ ও বণ্টনের ওপর নির্ভর করে। তাই স্বাভাবিক ত্বকের রংকে স্থায়ীভাবে বদলে ফেলার চেষ্টা না করে ত্বক সুস্থ রাখার দিকে গুরুত্ব দেওয়াই বেশি জরুরি। কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে সেটি ত্বকের জন্য নিরাপদ কি না এবং এর উপাদান কী, তা জানা প্রয়োজন।
দ্রুত ফর্সা হওয়ার ঝুঁকি
কিছু ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে স্টেরয়েড, পারদ বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে। বিশেষ করে শক্তিশালী স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম দীর্ঘদিন মুখে ব্যবহার করলে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, রক্তনালি দৃশ্যমান হওয়া, ব্রণ বা মুখে অতিরিক্ত লোমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার পারদযুক্ত পণ্য দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বকের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
অনেক সময় পণ্য ব্যবহারের পর প্রথম দিকে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ মনে হয়। এতে ব্যবহারকারী মনে করেন, পণ্যটি কাজ করছে। কিন্তু পরে ত্বকে সংবেদনশীলতা, লালচে ভাব, দাগ কিংবা আগের চেয়ে বেশি কালচে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘরোয়া উপাদানেও সতর্কতা
ত্বক ফর্সা করার জন্য লেবুর রস, বেকিং সোডা বা বিভিন্ন কড়া উপাদান সরাসরি মুখে লাগানোর প্রবণতাও রয়েছে। এসব উপাদান ত্বকের স্বাভাবিক ও প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
ত্বকের রং নিয়ে সামাজিক চাপ থেকেও অনেকে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করেন। অথচ স্বাস্থ্যকর ত্বক মানেই ফর্সা ত্বক নয়। ত্বক পরিষ্কার, আর্দ্র ও রোগমুক্ত রাখাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
ত্বকের যত্নে যা জরুরি
ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার এবং নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে এর উপাদান ও মেয়াদ যাচাই করা জরুরি।
ত্বকে হঠাৎ দাগ, জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত ব্রণ বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে নিজের মতো করে ক্রিম পরিবর্তন না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ফর্সা হওয়ার চেষ্টা নয়, সুস্থ ত্বকই হওয়া উচিত সৌন্দর্যচর্চার মূল লক্ষ্য। কারণ সাময়িক উজ্জ্বলতার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য রক্ষা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও