এক দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নোটিশ রাজস্থানের ৬ মসজিদ-মাদরাসায়, মানবাধিকার সংগঠনের ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের বারমের জেলায় ছয়টি মসজিদ ও মাদরাসাকে উচ্ছেদের জন্য অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি

2026-06-18T19:20:23+00:00
2026-06-18T20:37:33+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
এক দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নোটিশ রাজস্থানের ৬ মসজিদ-মাদরাসায়, মানবাধিকার সংগঠনের ক্ষোভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:২০ পিএম  আপডেট: ১৮.০৬.২০২৬ ৮:৩৭ পিএম
সৈয়দ সাদাত আলী বলেন, ১১ জুন তারিখে জারি করা নোটিশগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের হাতে পৌঁছেছে ১৭ জুন সন্ধ্যায়। ফলে আইনগত সহায়তা নেওয়া, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা এবং জবাব প্রস্তুত করার জন্য তাদের হাতে ২৪ ঘণ্টারও কম সময় ছিল। সংগৃহীত ছবি
ভারতের রাজস্থান রাজ্যের বারমের জেলায় ছয়টি মসজিদ ও মাদরাসাকে উচ্ছেদের জন্য অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি (এপিসিআর)।

সংগঠনটির অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জমি খালি করা বা উচ্ছেদের কারণ সম্পর্কে জবাব দেওয়ার জন্য কার্যত মাত্র এক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে, যা ন্যায়বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারমের জেলার গাদরা রোড তহশিল এলাকার কয়েকটি মসজিদ ও মাদরাসার পরিচালনা কমিটির কাছে সম্প্রতি উচ্ছেদ নোটিশ পাঠিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নোটিশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি খালি করতে অথবা কেন উচ্ছেদ করা হবে না সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতির রাজস্থান শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাদাত আলী বুধবার এক বিবৃতিতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া আইনি বাধ্যবাধকতার অংশ।

তার দাবি, নোটিশগুলোতে ১১ জুনের তারিখ উল্লেখ থাকলেও সেগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের হাতে পৌঁছেছে ১৭ জুন সন্ধ্যায়। অথচ তাদের ১৮ জুনের মধ্যেই জবাব দিতে বা তহশিল কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

ফলে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা কিংবা প্রশাসনের দাবির জবাব প্রস্তুত করার জন্য বাস্তবে খুবই অল্প সময় পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সৈয়দ সাদাত আলী বলেন, কোনো প্রতিকূল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রভাবিত ব্যক্তিদের কথা শোনার সুযোগ দেওয়া প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের অন্যতম মৌলিক নীতি। এত কম সময়ের নোটিশ সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। 


মানবাধিকার সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, এই পদক্ষেপ ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত সমতা, ব্যক্তিগত অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিভিন্ন সাংবিধানিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

এপিসিআরের মতে, উচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত অতীতে একাধিক রায়ে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সেই আলোকে বর্তমান নোটিশ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সংগঠনটি প্রশাসনের কাছে উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত শুনানির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে।

এপিসিআর আরও জানিয়েছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো একতরফা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদান করবে।

তবে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত যেকোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাই এ ধরনের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য শোনার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।




সময়ের আলো/ইউএমএইচ



  বিষয়:   রাজস্থান  মসজিদ-মাদরাসা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: