রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়া বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই তালিকায় রয়েছে ভারত ও চীন।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতেই বিলটি আনা হয়েছে। প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর ও ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে বিলটির নামকরণ করা হয়েছে।
বিলটি পাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, এর মাধ্যমে ইউক্রেনের জনগণকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে তারা একা নয় এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন জয় করতে পারবেন না।
লিন্ডসে গ্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হওয়া তার বোন ডারলিন গ্রাহামও বিলটির প্রশংসা করেছেন। তার মতে, প্রস্তাবিত আইনটি রাশিয়ার ওপর সরাসরি বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে।
ভারত ও চীন ছাড়াও রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারকের তালিকায় রয়েছে আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া। তবে বিলটিতে কিছু ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কোনো দেশ রাশিয়া থেকে ১৫ শতাংশের কম প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করলে এবং সেই নির্ভরতা কমাতে নিয়মিত পদক্ষেপ নিলে তাকে শুল্কের আওতা থেকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া যেসব পুরোনো বা নাম পরিবর্তন করা তেলবাহী ট্যাংকার ব্যবহার করে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে বিলে। তবে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট চাইলে কিছু ক্ষেত্রে এসব নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক থেকে ছাড় দিতে পারবেন।
রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধেও নতুন পদক্ষেপ রাখা হয়েছে বিলটিতে। ১৯৯৬ সালের ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।
সিনেটে অনুমোদনের পর বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন শুরু হলে সেখানে বিলটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে। এরপর উভয় কক্ষের অনুমোদন পেলে তা প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।
সূত্র : এনডিটিভি
সময়ের আলো/কেএইচও