যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ বন্ধে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা আপাতত সাময়িক সমাধানেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হামাদ বিন জাসিম বিন জাবের আল থানি। তার মতে, তেহরান দীর্ঘসূত্রতার মাধ্যমে কিছু সুবিধা পাওয়ার সুযোগ দেখছে।
হামাদ বিন জাসিম বলেন, বর্তমান কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো সাময়িক যুদ্ধবিরতির মতো হয়ে যেতে পারে, যেগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর বাড়ানো হবে; কিন্তু স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো কঠিন হবে।
তার ভাষ্য, ইরান মনে করতে পারে যে সময়ক্ষেপণ ও ধৈর্য ধরে চললে তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও এই অপেক্ষা দেশটিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুবিধা আদায়ের সুযোগ করে দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এসব সাময়িক সমাধান শেষ পর্যন্ত আগের সাময়িক যুদ্ধবিরতিগুলোর মতোই হবে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেগুলো বাড়তে থাকবে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো হবে না।’
হামাদ বিন জাসিমের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোকেও কিছুটা চাপ ও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি আইনগত, স্থায়ী ও স্পষ্ট সমাধানের দাবিতে তাদের অনড় থাকা উচিত।
তিনি বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলোকে কিছুটা কষ্ট সহ্য করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি ও এর মধ্য দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিয়ে আইনগত, স্থায়ী ও স্পষ্ট সমাধানের জন্য জোর দিতে হবে।’
হরমুজ প্রণালির অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে কাতারও সাম্প্রতিক সময়ে একটি সার্বিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, নৌপথটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সময়ের আলো/জেডি