গাজাকে ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক বন্দিশিবির’ বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তইয়্যব এরদোয়ান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ভাষণের শুরুতেই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসার অনুমতি না দেওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি এই ‘অন্যায়’ মানবতার বিবেককে গভীরভাবে আহত করে। তুরস্ক একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলে যাবে বলেও জানান তিনি।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, ইসরায়েলি হামলায় সেখানে তিন বছরেরও কম সময়ে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তার ভাষায়, গাজা শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘শিশুদের কবরস্থান’ নয়, বরং শিশুদের অঙ্গহানির হারও সেখানে বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির কথাও উল্লেখ করেন এরদোয়ান। তবে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে এগোয়নি এবং গাজায় এখনো ফিলিস্তিনিরা নিহত হচ্ছেন।
এরদোয়ান বলেন, এটি মানবিকতার বিষয়, আমাদের সবার বিবেকের বিষয়। আমরা এমন এক গণহত্যামূলক মানসিকতার মুখোমুখি, যা হত্যার মাধ্যমে কখনোই তৃপ্ত হয় না।
তিনি আরও বলেন, মানবতা, দয়া, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও বিবেকসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি গাজার এই পরিস্থিতির প্রতি উদাসীন থাকতে পারেন না।
ভাষণে গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান তিনি।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ