ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘ধ্বংস’ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার সামনে একটি বড় সিদ্ধান্ত রয়েছে। এমন কোনো চুক্তি হবে কি, যার মাধ্যমে ইরান পুনর্গঠন করে আগের চেয়েও শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠতে পারবে, নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করব এবং তা দ্রুত করব?’
ইরান আলোচনায় দেরি করছে, এমন দাবি করে ট্রাম্প বলেন, দেশটি হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি কী করেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ইরান প্রসঙ্গে নির্বাচনের বিষয়টি তাঁর বিবেচনায় নেই বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না’— এটাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ভাষণে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি মাদক চক্রগুলোকে ‘পশ্চিম গোলার্ধের আইএসআইএস’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দেন।
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের একটি প্রতিনিধিদলও অংশ নিচ্ছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের কথা রয়েছে ট্রাম্পের।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বরও ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে বলেন, দেশটির সঙ্গে যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর সামনে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ রয়েছে। তিনি তখনও ইরানের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের এবারের বক্তব্যে একদিকে ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ চুক্তির সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও স্পষ্ট হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ