গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সইয়ের সময় ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে তুলনামূলক উষ্ণ সুরে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথাসহ কয়েক মাসের কঠোর বক্তব্যের পর তার এই অবস্থানকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের দুই প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, এটি ছিল অসাধারণ এক যাত্রা। এখানে অসাধারণ কিছু মানুষ রয়েছেন। আমার বাঁ পাশে থাকা দুজনকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা সেটি করে ফেলেছি। তিন দেশ এখন ‘দারুণ সম্পর্ক’ এবং একটি ‘নিরাপদ সম্পর্ক’ বজায় রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, কয়েক প্রজন্মের মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন, কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারেননি, এবার সেটিই করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং গ্রিনল্যান্ড— সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ও অসাধারণ একটি বিষয়।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগের অবস্থানের সঙ্গে মঙ্গলবারের বক্তব্যের স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গেছে। এর আগে দ্বীপটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে তিনি কয়েক মাস ধরে কঠোর বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। এর মধ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও তিনি উড়িয়ে দেননি।
ট্রাম্পের এসব হুমকির তীব্র বিরোধিতা করেছিল ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো। তবে ট্রাম্প আশঙ্কাগুলো নাকচ করে দিয়ে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
মঙ্গলবার সই হওয়া চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির সঙ্গে নতুন সমঝোতার পার্থক্য কতটা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ওই চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ