‘কবরবাসীর ভোট’ ঠেকাবে ইসি

শাকিল আহমেদ

জাতীয়

নির্বাচনে জালিয়াতি, ভোট কারচুপি ও জাল ভোটের মাধ্যমে ‘কবরবাসীর’ ভোট দেওয়া ঠেকাতে বছরজুড়ে মৃত ভোটারের নাম কর্তন করবে নির্বাচন কমিশন

2026-06-20T03:11:47+00:00
2026-06-20T03:14:02+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
‘কবরবাসীর ভোট’ ঠেকাবে ইসি
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৩:১১ এএম  আপডেট: ২০.০৬.২০২৬ ৩:১৪ এএম
সংগৃহীত ছবি
নির্বাচনে জালিয়াতি, ভোট কারচুপি ও জাল ভোটের মাধ্যমে ‘কবরবাসীর’ ভোট দেওয়া ঠেকাতে বছরজুড়ে মৃত ভোটারের নাম কর্তন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য সারা বছর মৃত ভোটারের নাম কর্তন-কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত করে কার্যপত্রসহ কমিশন সভায় উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। গত ১৯ মে ইসির কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম থাকা মানেই ‘জাল ভোট’ বা ভোট জালিয়াতির ঝুঁকি। নির্বাচনের দিন অন্য কেউ সেই মৃত ভোটারের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে ভোট প্রদান করতে পারে। 

এ ছাড়া মৃত ভোটারের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নানা ধরনের আর্থিক বা প্রশাসনিক জালিয়াতির আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া নির্বাচনে জাল ভোট পড়ার কারণে নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ভোটের 
আরও পড়ুন

মোট হিসাবে গরমিল দেখা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র যদি সক্রিয় থাকে, তবে তা ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ভোগ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বা সিমকার্ড রেজিস্ট্রেশনের মতো জালিয়াতি করা সম্ভব। এতে করে মৃত ব্যক্তির তথ্য অবৈধ কাজে ব্যবহার হলে তার পরিবার পরবর্তী সময়ে আইনি ঝামেলায় পড়তে পারে। এই সমস্যাগুলো এড়াতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সারা বছর ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। তাই কোনো পরিবারের মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় থাকলে তা বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ (মৃত্যু সনদ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়নপত্র) ভোটার এলাকার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন ইসি কর্মকর্তারা।

এর আগে প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের সময় তালিকা থেকে মৃত ভোটারের নাম কর্তন করত নির্বাচন কমিশন। এতে অনেক সময় ভুলভ্রান্তি থেকে যেত। যে কারণে ভোটের সময় প্রায়ই দেখা যেত তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম রয়ে গেছে। এবং অনেকে ক্ষেত্রে দেখা গেছে মৃত ব্যক্তির নাম দিয়ে অন্য কেউ ভোট দিয়ে গেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় দলগুলোর মধ্যে তর্কবিতর্ক দেখা যেত এবং মৃত ব্যক্তির ভোট দেওয়া নিয়েও সামাজিকমাধ্যমে হাস্যরসের সৃষ্টি হতো। তাই নির্ভুল ও বিতর্কিত ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্য সারা বছর মৃত ভোটারের নাম কর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তবে এ সিদ্ধান্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, কবে নাগাদ চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে এ নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান ইসি কর্মকর্তারা। 

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) পরিচালক (পরিচালনা) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সারা বছর মৃত ভোটারের নাম কর্তনের জন্য আমাদের সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং কমিটি করে দিয়েছে। এটা পরবর্তী কমিশন সভায় আবার আলোচনা করা হবে। এই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, সারা বছর মৃত ভোটারের নাম কাটা হলে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় মাঠপর্যায়ে কাজের চাপ কমবে এবং প্রতিদিনের কাজ জমেও থাকবে না। এ ছাড়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ভালো সুবিধা পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল হাসনাত মুহম্মদ আনোয়ার পাশা সময়ের আলোকে বলেন, বছরব্যাপী মৃত ভোটারের নাম কাটার বিষয়টি আমাকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। বিষয়টি আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। আমরা সুন্দর একটি সমাধানে যাবো। একটি ইফেক্টিভ সমাধান হবে বলে আমরা আশা করি। 

তিনি বলেন, এটা শুরু করতে সময় নেব। কারণ নাম কর্তনটা আমরা কোন উপায়ে করব সেটি একটি বিষয়। সেটি নির্ধারণ করে সিদ্ধান্ত নেব। 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পরিচালিত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে তালিকা থেকে মোট ২১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯০ জন মৃত নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে কর্তন করা হয়। মৃত ভোটারদের বাদ দেওয়ার পর সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকা থেকে ১৬ লাখেরও বেশি (প্রায় ১৬ লাখ ৭০ হাজার) মৃত ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সারা দেশে মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশন মৃত ব্যক্তিদের তালিকা চূড়ান্তভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাতিল করেছিল। এ ছাড়া ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৭ লাখ মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর থেকে ওই সময় পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এই তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম কর্তন করা হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে প্রায় ২১ লাখ মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অতীতে এ মৃত ব্যক্তির নামেও ভোট দেওয়া হতো। এই মৃত ভোটার যে নামেই হোক, অনেকে ভোট দিয়ে যেত। আমি প্রিন্ট মিডিয়ায় এমন ক্যাপশন দেখেছি, ‘কবরবাসী ভোটার’।

এএডি/


  বিষয়:   কবর  বাসী  ভোট  ইসি 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: