পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। চলমান সহিংসতায় পুরো অঞ্চলে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে এবং ব্যাপক ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে স্কাই নিউজ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, আসন্ন আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। ৪৫ সদস্যের আইনসভায় এসব সংরক্ষিত আসন ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুতদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ৯ জুন ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়ার আগে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ তীব্র হয়ে ওঠে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৯৭ জন আহত হয়েছেন এবং ৫১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌথ গণঅভিযান কমিটির উদ্যোগে এই ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। সংগঠনটির হাজারো সমর্থক বর্তমানে আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের রাওয়ালাকোট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সংবাদমাধ্যমের চলাচল ও তথ্য সংগ্রহে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
মুজাফফরাবাদের ব্যস্ত বাজারগুলো এখন প্রায় ফাঁকা। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। দিনমজুররা কাজের অপেক্ষায় থাকলেও কাজ পাচ্ছেন না।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইন্টারনেট ও উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ব্যাংকিং কার্যক্রম ও এটিএম সেবা বন্ধ রয়েছে। সরকারি নির্দেশে জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
যদিও কিছু ওষুধের দোকান ও মুদি দোকান সীমিত সময়ের জন্য খুলতে শুরু করেছে, তবুও স্বাভাবিক পরিস্থিতি এখনো ফেরেনি।
সময়ের আলো/আরবিএন