প্রথম ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ পাওয়া দুই দলই এবার ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে। ফুটবল বিশ্বকাপের ই-গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে রোববার ভোর ৬টায় মুখোমুখি হয়েছে ইকুয়েডর ও কুরাসাও। নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে উভয় দলের জন্যই ম্যাচটি হয়ে উঠেছে ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই।
ফিলাডেলফিয়ায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে পুরো সময় সমানতালে লড়াই করেও শেষ মুহূর্তে (৯০ মিনিটে) গোল হজম করে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় ইকুয়েডর। টানা ১৯ ম্যাচ এবং প্রায় দুই বছর অপরাজিত থাকার পর এমন হার ল্যাটিন আমেরিকার দলটির জন্য ছিল বড় ধাক্কা।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই শক্তিশালী জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় কুরাসাও। ফলে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে দুই দলই জয়ের পথে ফিরতে মরিয়া।
চলতি বিশ্বকাপে ৪৮ দলের অংশগ্রহণের কারণে নকআউটে ওঠার সমীকরণ আগের চেয়ে অনেক সহজ। গ্রুপ পর্বে চার পয়েন্ট পেলেই শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তিন পয়েন্ট নিয়েও পরের রাউন্ডে ওঠা সম্ভব। তাই কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট আদায়ের সেরা সুযোগ হিসেবেই দেখছে ইকুয়েডর।
আর্জেন্টাইন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে প্রথম ম্যাচে ৩-৪-৩ ফরমেশনে দল সাজালেও এবার রক্ষণভাগ থেকে একজন কমিয়ে মাঝমাঠ বা আক্রমণে বাড়তি সৃজনশীল খেলোয়াড় যুক্ত করার চিন্তা করতে পারেন, যাতে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা যায়।
ইকুয়েডরের সবচেয়ে বড় ভরসা ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এনার ভ্যালেন্সিয়া। দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছয় গোল করা এই তারকা প্রথম ম্যাচে পোস্টে বল লাগিয়ে গোলবঞ্চিত হন। পুরো ৯০ মিনিট খেলা ভ্যালেন্সিয়াই আবারও দলটির আক্রমণের প্রধান ভরসা।
ভ্যালেন্সিয়া ছাড়া স্কোয়াডে অন্য কোনো স্ট্রাইকারের আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা দুই অঙ্কে না পৌঁছালেও ইকুয়েডরের দলে প্রতিভার অভাব নেই। রক্ষণে পিয়েরো হিনকাপি ও উইলিয়ান পাচো, মাঝমাঠে মোইসেস কাইসেদো ও কেন্দ্রি পায়েজ এবং আক্রমণে গঞ্জালো প্লাটা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বড় পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকেট-এর অধীনে থাকা কুরাসাও জার্মানির বিপক্ষে প্রথম ৩৮ মিনিট যে দৃঢ়তা দেখিয়েছিল, সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা খুঁজছে। ওই ম্যাচে লিভানো কোমেনেনসিয়া বিশ্বকাপে কুরাসাওয়ের ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেন।
তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে জোড়া গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে ‘ব্লু ওয়েভ’ খ্যাত দলটি। তাই এবার তাদের মূল চ্যালেঞ্জ প্রথম ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো পুরো ৯০ মিনিট ধরে ধরে রাখা। স্বস্তির খবর, কুরাসাও শিবিরে কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই।
আক্রমণে অধিনায়ক লিয়েন্দ্রো বাকুনা, জুনিনহো বাকুনা এবং সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড তাহিথ চং-এর অভিজ্ঞতা ও গতি ইকুয়েডরের রক্ষণভাগকে কিছুটা হলেও চাপে ফেলতে পারে।
ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি অঞ্চলের দল হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে এটিই ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। প্রথম ম্যাচে হারের পর নকআউটের দৌড়ে টিকে থাকতে ইকুয়েডর যেখানে মরিয়া, সেখানে কুরাসাওয়ের লক্ষ্য বিশ্বমঞ্চে বড় কোনো অঘটন ঘটানো।
তবে কাগজে-কলমে শক্তি, অভিজ্ঞতা এবং স্কোয়াডের গভীরতায় স্পষ্টভাবেই এগিয়ে ইকুয়েডর। ফুটবল বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস বলছে, আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারলে ল্যাটিন আমেরিকার দলটি ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করতে পারে।
সময়ের আলো/এসএকে