তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে শুধু ভয়ভীতি বা নিষেধাজ্ঞামূলক প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
রোববার (২১ জুন) সকাল ১১টায় আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রফেসর ড. এম এইচ খান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘তরুণদের মাদক প্রতিরোধে প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সেমিনারটির আয়োজন করে আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (আউস্ট)। এতে সহযোগিতা করে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন এবং ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাবসটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তবেই একটি সুন্দর, মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তরুণদের শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দারিদ্র্য দূরীকরণে এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক এবং আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাসুদ। তিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, ওভিয়েডো ঘোষণা এবং আচরণ পরিবর্তনের বিজ্ঞানভিত্তিক মডেলের আলোকে কর্মক্ষেত্র ও বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, মাদকাসক্ত বা ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের শাস্তির পরিবর্তে পুনরুদ্ধারভিত্তিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিদ্যমান কার্যক্রমের বৈজ্ঞানিক পুনর্মূল্যায়ন এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের কার্যকারিতা যাচাই এখন সময়ের দাবি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ হাসান মারুফ বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। অধিদপ্তর বর্তমানে মাঠপর্যায়ের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়নে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর জোর দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণই তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।
আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান ডা. এম এ মোহিত কামাল তরুণদের মানসিক সুস্থতা গঠনে প্রতিকূল শৈশব অভিজ্ঞতা চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি ড. এস এম খলিলুর রহমান তরুণদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে আন্তর্জাতিক কর্মসূচির পাইলট বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে আউস্টের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল হক মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস ও সুস্থ সমাজ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
সময়ের আলো/এসএকে