ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (আইজিসিসি) ব্যবস্থাপনায় উদযাপিত হয়ে গেলো ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
রোববার (২১ জুন) রাজধানীর বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় যোগব্যায়াম অনুরাগী, শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ক অনুশীলনকারীদের অংশগ্রহণে এই দিবসটি পালিত হয়।
যোগব্যায়াম ভারতে উদ্ভূত একটি প্রাচীন অনুশীলন, যা শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। প্রতি বছরের ২১ জুন বিশ্বব্যাপী এই দিবস পালিত হয়। এবারের যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল 'সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ', যা জীবনের প্রতিটি স্তরে দীর্ঘায়ু, শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক বিকাশে যোগব্যায়ামের ভূমিকাকে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল কমন ইয়োগা প্রোটোকল (সিওয়াইপি) সেশন। আইজিসিসির যোগ শিক্ষক শাহনাজ পারভিন তাঁর শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে এই সেশনটি পরিচালনা করেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আগত প্রতিনিধিরা নতুন এবং মধ্যম স্তরের অনুশীলনকারীদের জন্য ডিজাইন করা বিভিন্ন যোগাসন এবং প্রাণায়াম (নিশ্বাসের ব্যায়াম) প্রদর্শন করেন। যা, বাংলাদেশে যোগব্যায়ামের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তুলেছে।
এবারের আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘আয়ুর্বেদ লাউঞ্জ’, যেখানে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার সামগ্রিক পদ্ধতি হিসেবে আয়ুর্বেদ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়। লাউঞ্জটিতে দ্য আয়ুর্বেদা মেডিক্যাল অ্যান্ড রিসার্চ, ঔষধি ল্যাবরেটরিজ এবং ওশিন ন্যাচারালস পৃথক প্রদর্শনী কিয়স্ক স্থাপন করে দর্শনার্থীদের আয়ুর্বেদভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। পাশাপাশি ভারতীয় হাইকমিশনের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আয়ুর্বেদবিষয়ক বইও জনসাধারণের জন্য প্রদর্শন করা হয়।
মূল অনুষ্ঠানটি ছিল আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে পরিচালিত বিস্তৃত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সমাপনী আয়োজন।
গত ৬ মে অনুষ্ঠিত কার্টেন-রেইজার কর্মসূচির মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়। এরপর আইজিসিসি ও ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকা বিভিন্ন যোগ প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম সংস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সারা দেশে ৩৬টিরও বেশি যোগবিষয়ক প্রাক-অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সহায়তা প্রদান করে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে যোগব্যায়ামের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হয়।
আয়োজকদের মতে, এ আয়োজন যোগব্যায়ামকে সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য ও সামগ্রিক কল্যাণের এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যোগচর্চার প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও ইতিবাচক সাড়ারও প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
সময়ের আলো/আতা